প্রকৃতির রোষ রেহাই দেয় না কাউকে। একবার দাপট দেখাতে শুরু করলে নির্বিশেষে সব কেড়ে নেয়। আবারও তার সেই রুদ্র রূপের সাক্ষী থেকেছে ভেনেজুয়েলা। বৃহস্পতিবার সে দেশে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গিয়েছে রাজধানী কারাকাস-সহ বিস্তীর্ণ অংশ। মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই। সময় যত এগিয়েছে, লাটিন আমেরিকার এই ছোট্ট কম্পন বিধ্বস্ত দেশের ধ্বংসের ছবিগুলো যেন জীবন্ত উঠে এসেছে সোশাল মিডিয়ার পাতায়। তবে এসবের মধ্যেও যে খবর বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়েছে নেটভুবনে, তা হল এক মায়ের আত্মবলিদান!
স্ত্রীর প্রাণহানির খবর পেয়ে দূরে থাকা ভেনেজুয়েলার ফুটবলার যেন নিজেকে আর ধরে রাখতে পারছেন না! ভগ্নহৃদয় নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় তাঁর একাধিক আবেগপূর্ণ পোস্ট দেখে মনকেমন নেটিজেনদের। বারবার আক্ষেপের সুরে তিনি লিখেছেন, তোমার এই ত্যাগের কাহিনি আমি ওকে (শিশুকন্যাকে) শোনাব। বলব যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তুমি ওকে কীভাবে আগলে রেখেছিলে। কিন্তু ওকে কী করে বলব, এই বিপদের সময় আমি তোমাদের রক্ষা করতে পারিনি?”
আরও পড়ুন:
কম্পন বিপর্যয় থেকে ছোট্ট মেয়েকে বাঁচিয়ে নিজে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। আর স্ত্রীর প্রাণহানির খবর পেয়ে দূরে থাকা ভেনেজুয়েলার ফুটবলার যেন নিজেকে আর ধরে রাখতে পারছেন না! ভগ্নহৃদয় নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় তাঁর একাধিক আবেগপূর্ণ পোস্ট দেখে মনকেমন নেটিজেনদের। বারবার আক্ষেপের সুরে তিনি লিখেছেন, তোমার এই ত্যাগের কাহিনি আমি ওকে (শিশুকন্যাকে) শোনাব।বলব যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তুমি ওকে কীভাবে আগলে রেখেছিলে।কিন্তু ওকে কী করে বলব, এই বিপদের সময় আমি তোমাদের রক্ষা করতে পারিনি?”

বৃহস্পতিবার ভোরে যখন প্রবল ভূমিকম্পে দুলে উঠেছিল কারাকাস, তখন ফুটবলার হেক্টর বেলো ছিলেন বহু দূরে। বিপর্যয়ের খবর পেয়ে দৌড়তে দৌড়তে আসছিলেন। মাঝপথেই জানতে পারেন, ছোট্ট মেয়েটি আহত হয়ে হাসপাতালে। কিন্তু মেয়েকে বাঁচিয়ে স্ত্রী আন্দ্রিয়া পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এ খবর জানার পরই যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে হেক্টরের। ইনস্টাগ্রামে একের পর এক পোস্ট করেন, তাতে স্ত্রী বিয়োগের তীব্র বেদনার প্রতিফলন। কখনও হেক্টর লিখছেন, মেয়েকে তিনি মায়ের সাহসিকতা আর আত্মত্যাগের কথা বলবেন। কখনও আবার নিদারুণ যন্ত্রণায় লিখে ফেলছেন, কেন এমন দুঃসময়ে তিনি স্ত্রী, সন্তানের কাছে থাকতে পারলেন না? মেয়েকে একথা কী করে বলবেন, তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারেননি? সেই প্রশ্নের কাঁটা যেন অহরহ বিঁধছে হেক্টরের বুকে।
শুধু হেক্টর বেলোর পোস্ট থেকেই মায়ের এই আত্মত্যাগের কথা জানা যাচ্ছে, এমনটা নয়। কারাকাসের একাধিক ফুটবলার ও ফুটবল ক্লাবগুলিও আন্দ্রিয়ার করুণ কাহিনি নিজেদের সোশাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছে। কম্পন বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় জাতীয় স্তরের কয়েকজন ফুটবলারেরও মৃত্যু হয়েছে, তা জানিয়েছে সেখানকার ফুটবল সংস্থা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
