উত্তরের কবিমুখ

উত্তরের কবিমুখ

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


গৌতম গুহ রায়

কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক- এই ত্রয়ী সত্তার মেলবন্ধনে উত্তরের সাহিত্যে এক স্বতন্ত্র নাম গৌতম গুহ রায়। ১৯৬৪ সালের ২৩ জানুয়ারি জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া এই সাহিত্যিকের শিকড় বাংলাদেশের বিক্রমপুরে। আনন্দচন্দ্র কলেজ ও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই ছাত্র দেশভাগের মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্রণা বুকে নিয়েও এক অখণ্ড বাংলার প্রতিচ্ছবি মানসলোকে লালন করেন। বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা গৌতম পেশায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংককর্মী এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী। মাত্র দশ বছর বয়সে ‘দৈনিক বসুমতী’-তে প্রথম কবিতা প্রকাশের পর তাঁর সৃষ্টিশীল পথ চলা আজ পঞ্চাশ বছর পার করেছে। ১৯৮৬-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাপ স্বপ্ন সহবাস’-এর পর তাঁর আরও ১০টি কবিতার বই এবং ‘গোসানি মঙ্গল’-এর মতো আখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। অনুবাদ ও প্রবন্ধে তিনি র‌্যাঁবো, ব্রেখট, দস্তয়েভস্কি ও গুন্টার গ্রাসকে বাংলায় এনেছেন। ২০২৪ থেকে ঢাকার ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এ তাঁর ধারাবাহিক আত্মজীবনী ‘ক্ষতচিহ্নিত হাড়মাংস’ প্রকাশিত হচ্ছে। ছাত্রাবস্থা থেকে সম্পাদিত তাঁর ঐতিহ্যবাহী লিটল ম্যাগাজিন ‘দ্যোতনা’ এবং সুদীর্ঘ সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, বিনয় মজুমদার পুরস্কার, শালুক সম্মাননা এবং জলপাইগুড়ি বইমেলা ও ‘অভিক্রম’ থেকে ‘জীবনকৃতি সম্মান’-এ ভূষিত হয়েছেন। লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনার জন্য কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন গবেষণাকেন্দ্রের তরফেও সম্মানিত।

 

ধুলোরোদ্দুরের ছবি

 

যে পথ ধরেছ, তার ধুলো মাখা ঘাম ও গুপ্ত ফুল

মিশে আছে তোমাদের খুশিতে, বিষাদে।

রাত ভেঙে, চাঁদ ভেঙে

আলো এল শহরের শেষে। তবুও,

উঠে আসার ইচ্ছেটা মৃণালতন্তুর মতো গায়ে জল নিয়ে

জলতল ছুঁয়ে থাকে …

মিছিলে অন্তর্বর্তী হেঁটে যাওয়া স্লোগান লাল জোয়ারের মতো

স্তব্ধতার ঝুটি নেড়ে, দমকা ঝড়ের মতো

এই নাও স্বপ্ন পাখি, আমাদেরই উৎপন্ন জলে ও স্থলে

লক্ষ্য করে দেখ, পরস্পরের প্রবল আকর্ষণ

তাঁরা হেঁটে আসছেন,

খুলে ফেলে ভ্রান্তির বাঘছাল, খল বাঘনখ

খুলে ফেলে আত্মবন্দি ক্রীতদাস জীবন

এই পথের অন্ত নেই, তাদের শেষ নেই,

আছে শুধু মৃত্যুর রক্তিম কাঁটা, নগ্নত্বকের ক্ষত

ধুলোতে ধুলোতে দুঃখ সংগীত

ইতিহাস পড়ে থাকে, পড়ে থাকে অনন্ত শিরস্ত্রাণ

বিরতিহীন মিছিলের আনন্দসংগীত,

জোয়ারের মতো, শিশিরের মতো

জ্বলে জ্বলে ওঠে অনন্ত নক্ষত্রের শুভ হাসি,

তুলে রাখো রৌদ্রসম আঙুলের দাগ

আলো কুড়োনোর বেলা শেষে এঁকে দিও ললাট টিকা

জ্যোৎস্নাঙ্কিত জলগণতান্ত্রিক রোদ্দুরের উষ্ণ ছবি



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *