উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ সাফল্যের আলো অনেক সময়ই বংশপরম্পরায় বয়ে চলে। কিন্তু সেই আলোর অভিমুখ বদলে গেলে জন্ম নেয় এক নতুন ইতিহাস। ঠিক যেমনটা ঘটল মীরা নায়ারের পুত্র জোহরান মামদানির জীবনে। মীরা চেয়েছিলেন তাঁর ম্যাজিক রিয়ালিজমের দুনিয়ায় ছেলে হবে তাঁর তুরুপের তাস, কিন্তু ছেলের গন্তব্য ছিল জনসেবার কঠিন লড়াইয়ে।
২০০১ সালের সেই কালজয়ী ছবি ‘মনসুন ওয়েডিং’-এর স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে মীরা শোনালেন এক অজানা গল্প। ছবির ওয়ার্কশপ চলছে, কিন্তু এমন কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না যে, একইসঙ্গে নাচ, গান আর অভিনয়— তিনটিতেই পারদর্শী। ঠিক সেই সময় ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন জোহরান। সেই ওয়ার্কশপে পিকে দুবে-র চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে পলকা ডট শার্ট আর অদ্ভুত হেয়ারস্টাইলে কিশোর জোহরান বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, অভিনয়ের রক্ত তাঁর ধমনীতে বইছে।
মীরা নায়ার চেয়েছিলেন তাঁর পরিচালিত ‘আ স্যুটেবল বয়’ (২০২০) সিরিজে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করুক জোহরানই। মায়ের বিশ্বাস ছিল, তাঁর ছেলে কেবল যোগ্য নয় বরং এই চরিত্রের জন্য সবথেকে সাবলীল। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে জোহরানের ঝোঁক বদলে গিয়েছিল। গ্ল্যামার দুনিয়ার হাতছানি এড়িয়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পথ। এই প্রসঙ্গে মীরা নায়ার বলেন, “ও অভিনেতা হিসেবে ভীষণ উদাসীন ছিল। অভিনয়টা ও করতেই চায়নি। আর আমি একজন মা হিসেবে ওর সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছিলাম।”শেষ পর্যন্ত ওই চরিত্রে অভিনয় করেন ঈশান খট্টর।
মায়ের আক্ষেপ থাকলেও গর্বের শেষ নেই। ৬৮ বছর বয়সী পরিচালক আজ বুঝতে পারেন, জোহরান অভিনেতা না হলেও একজন খাঁটি মানুষ হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে নিউ ইয়র্কের মেয়রের দায়িত্ব সামলানো জোহরান মানুষের মন জয় করছেন তাঁর কাজ দিয়ে। মীরার কথায়, অভিনেতা হতে যা যা গুণ লাগে, মানুষকে আনন্দ দেওয়ার যে ক্ষমতা লাগে, তার সবটাই জোহরানের মধ্যে আছে। তাই সে আজ অভিনেতা না হলেও মানুষের নেতা।
