নয়াদিল্লি: কড়া মেজাজে হেডস্যর। কোচ হিসেবে ক্রিকেটমহলে এমনই পরিচিতি যোগরাজ সিংয়ের। যে কঠোর অনুশাসন পুত্র যুবরাজকে যেমন যন্ত্রণা দিয়েছে, তেমনই বাবাকেই তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার তৈরির কারিগরও মানেন। তবে সবসময় একটা ভয়ে ভয়ে থাকতেন বাবাকে নিয়ে। রান না পেলে বকুনি খাবেন। বাজে শট খেলে আউট হলে, হয়তো ছক্কা মারাই বন্ধ করে দেবেন।
নিজের কেরিয়ারজুড়ে থাকা বাবার যে অনুশাসন নিয়ে এদিন যুবরাজ কিছুটা আবেগতাড়িত। বলেছেন, ‘অত্যন্ত কড়া মেজাজের ছিলেন। বুঝতাম নিজের স্বপ্নটা আমার মধ্যে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। একেক সময় ভালো লাগত না। পরে বুঝতাম, কিছু পেতে গেলে ঘাম ঝরাতে হবে। আমাকে ধাক্কা মেরে সামনে এগিয়ে দেওয়ার পিছনে বাবাই। সাড়ে আঠারো বছর বয়সে ভারতীয় দলের হয়ে খেলার মূল কারণ সেটাই।’
যুবরাজের কথায়, বাবা মাঠে আসুক, তাঁর খেলা দেখুক, একদম চাইতেন না। কারণ খারাপ শট খেলে আউট হলেই জুটবে বকুনি। ‘বাবা সবসময় বলত মাটিতে রেখে খেলো। গ্রাউন্ড শটে স্কোর করো। তাই ভয়ে থাকতাম, যদি উঁচু শট খেলতে গিয়ে আউট হই, তাহলে হয়তো বিগহিট আর মারতেই দেবেন না বাবা,’ বলেছেন যুবি।
জীবনের সেরা মুহূর্ত? সিনিয়ার বিভাগে প্রথম আইসিসি টুর্নামেন্ট খেলে ফেরা। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮৪ রানের দুরন্ত ইনিংস কেরিয়ার বদলে দেয় যুবরাজের। যখন ফেরেন, বাবা-মা (ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে তখন) যুবিকে নিতে বিমানবন্দরে হাজির। দুইজনকে একসঙ্গে জড়িয়ে ধরেছিলেন। এখন নিজে দুই সন্তানের পিতা। বোঝেন, বাবা-মার একসঙ্গে থাকা সন্তানদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
শুভমান গিল, অভিষেক শর্মাদের মেন্টর হলেও পুত্র আরিয়নকে ক্রিকেটে আনতে চান না যুবরাজ! বলেছেন, ‘ও ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসে। বলে বাবা তোমার সঙ্গে খেলব। ভালো লাগে। তবে আমি চাই না ও ক্রিকেটার হোক। অবশ্য নিজে থেকে উৎসাহ দেখালে, পাশে থাকব।’
যেমনটা করেছিলেন শুভমান, অভিষেকদের উত্থানে। কড়া হাতেই সামলেছেন দুই তরুণ তুর্কিকে। দুইজনে বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন। অভিষেককে নাকি পার্টি, বান্ধবী থেকে দূরে রাখতে তালা দিয়ে পর্যন্ত রেখেছিলেন যুবরাজ!
অভিষেক সম্পর্কে যোগরাজের আরও চাঞ্চল্যকর দাবি, ‘পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং কোচদের থেকে অভিষেক সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। ওরা জানায়, ও বোলার। যদিও যুবরাজের চাপ দিতে অভিষেকের ব্যাটিং রেকর্ড সামনে আসে। দেখা যায় ২৪টি শতরান রয়েছে। মিথ্যে কথা বলে অভিষেককে আটকে দেওয়ার চেষ্টা।’
এখান থেকে অভিষেকের কেরিয়ার বদলে যাওয়া। প্র্যাকটিস, ঘাম ঝরানো, লড়াইয়ের শুরু। এমনকি যুবরাজ বাবাকে বলে বন্ধ করেছিলেন অভিষেকের পার্টি, বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা মারা। সবসময় নজর রাখতেন। বাবাকে বলেও ছিলেন, অভিষেক যাতে পার্টি করতে বেরিয়ে না যায়, তারজন্য ঘরে তালা লাগিয়ে রাখতে! শুভমানের ক্ষেত্রেও নাকি একই দাওয়াই দিয়েছিলেন!
