BLO Suicide | এসআইআর-এর অসহ্য চাপ! স্কুলের ভেতরেই আত্মঘাতী আরও এক বিএলও, নিশানায় নির্বাচন কমিশন

BLO Suicide | এসআইআর-এর অসহ্য চাপ! স্কুলের ভেতরেই আত্মঘাতী আরও এক বিএলও, নিশানায় নির্বাচন কমিশন

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোটার তালিকায় নাম সংশোধনের কাজ তথা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার ‘ডেডলাইন’ বা সময়সীমার চাপে আরও এক বিএলও-র (BLO Suicide) মৃত্যুসংবাদ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল মুর্শিদাবাদে। শনিবার গভীর রাতে রানিতলা থানার পাইকমারি চর কৃষ্ণপুর বয়েজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ৪৭ বছর বয়সী হামিমুল ইসলামের নিথর দেহ। পরিবারের অভিযোগ, একদিকে শিক্ষকতা এবং অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর সংক্রান্ত কাজের অত্যাধিক (SIR Work Stress) মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।

হামিমুল ইসলাম পূর্ব আলাইপুর গ্রামের একটি বুথে বিএলও হিসেবে কর্তব্যরত ছিলেন এবং পেশায় ছিলেন পাইকমারি চর কৃষ্ণপুর বয়েজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকালে অন্যান্য দিনের মতোই তিনি স্কুলে ক্লাস নিতে গিয়েছিলেন। সাধারণত বিকেল ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে তিনি বাড়ি ফেরেন। কিন্তু শনিবার রাত হয়ে গেলেও তিনি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে এক আত্মীয় ও স্থানীয় থানার এক সিভিক ভলান্টিয়ার ওই স্কুলে গিয়ে খোঁজ শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর একটি অন্ধকার ঘর থেকে হামিমুলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

মৃতের দাদা ফরমান উল কালাম ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশন যেভাবে এসআইআর-এর কাজ শেষ করার জন্য ভাইয়ের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল, তা ও নিতে পারেনি। দিনরাত শুধু ওই কাজের চিন্তায় থাকত। কমিশনের এই অমানবিক চাপের কারণেই আমরা ভাইকে হারালাম।” স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন ধরেই হামিমুল কাজের চাপে বিপর্যস্ত ছিলেন।

ঘটনার খবর পেয়েই শোকাতুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ভগবানগোলার তৃণমূল বিধায়ক রিয়াত হোসেন সরকার। তিনি পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি হামিমুলের সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। এরপরই তিনি জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন। বিধায়ক বলেন, “বিজেপির রাজনৈতিক স্বার্থে কমিশন তড়িঘড়ি এসআইআর শেষ করতে চাইছে। হামিমুলকে দিয়ে ম্যাপিং এবং আনম্যাপিং-এর মতো কঠিন কাজ করানো হচ্ছিল। সব মানুষের চাপ নেওয়ার ক্ষমতা সমান হয় না। কমিশনের অসহ্য জেদের ফলেই একের পর এক নিরীহ মানুষের অকালে প্রাণ যাচ্ছে।”

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে সারা রাজ্যে একাধিক বিএলও-র অসুস্থতা বা আত্মহত্যার খবর সামনে এসেছে। ভোটার তালিকা নিখুঁত করার এই প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল ও ফিল্ড ওয়ার্কের যে বিপুল চাপ প্রশাসনের নিচুতলার কর্মীদের ওপর পড়ছে, হামিমুল ইসলামের মৃত্যু সেই সঙ্কটে আরও একবার ঘি ঢালল। এখন প্রশাসন এই অভিযোগ খতিয়ে দেখে কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটাই দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *