উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নাকি দেশের সাইবার নিরাপত্তা—কোনটি বেশি জরুরি? এই দ্বন্দ্বের জেরেই এবার ভারতে হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp) বহু প্রতীক্ষিত এবং চর্চিত ‘ইউজারনেম’ (Username) ফিচার চালুর ওপর আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। মেটাকে (Meta) নোটিশ পাঠিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। সরকারি পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ফিচার ভারতে কোনোভাবেই রোলআউট করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) তাদের প্ল্যাটফর্মে একটি যুগান্তকারী প্রাইভেসি আপডেটের কথা ঘোষণা করেছিল। এই username-based messaging ফিচারের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী নিজের ফোন নম্বর গোপন রেখেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। সর্বোচ্চ ৩৫ অক্ষরের একটি ইউনিক ইউজারনেম তৈরি করে অপরিচিত ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চ্যাট করার সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের আশঙ্কা, গোপনীয়তা রক্ষার এই ঢালকে হাতিয়ার করতে পারে সাইবার অপরাধীরা। ফোন নম্বর দেখা না গেলে ফেক বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট চেনা সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জালিয়াতি এক মহামারির আকার নিয়েছে। ফেক ইনভেস্টমেন্ট স্কিম থেকে শুরু করে digital arrest frauds বা ফিশিং—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্ক্যামারদের প্রথম পছন্দ হোয়াটসঅ্যাপ। তদন্তকারীদের মতে, ইউজারনেম ফিচার চালু হলে অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং ট্র্যাক করা regulation enforcement businesses বা পুলিশ প্রশাসনের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
সংস্থাটির তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, এই ফিচারটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। পাশাপাশি Meta platforms (যেমন ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একই অ্যাকাউন্ট আইডেন্টিটি বজায় রাখার সুবিধাও দেওয়া হবে। মেটার দাবি, তাদের প্ল্যাটফর্মে ব্লক বা রিপোর্ট করার মতো সেফটি টুলস আগের মতোই সক্রিয় থাকবে। তবে ভারতের মতো জটিল ইকোসিস্টেমে, যেখানে on-line monetary fraud প্রতিদিনের মাথাব্যথা, সেখানে মেটার এই privateness commitments এবং সুরক্ষা বলয় যথেষ্ট কি না, তা খতিয়ে দেখছে সরকার। সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মেটার এই মেগা আপডেটকে ভারতের ডিজিটাল আঙিনায় প্রবেশের জন্য আপাতত অপেক্ষাতেই থাকতে হচ্ছে। এখন দেখার, আগামী তিন দিনে মেটা সরকারের এই উদ্বেগের কী জবাব দেয়।

