উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : গত বিধানসভা নির্বাচনে যে পশ্চিমবঙ্গ দেখেছিল দীর্ঘ এক মাসের আট দফার ম্যারাথন লড়াই, ২০২৬ সালে সেই চিত্রনাট্য পুরোপুরি বদলে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণায় পরিষ্কার—এ বার বাংলায় ভোট হবে (West Bengal Meeting Election 2026) মাত্র দুই দফার। আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ভাগ্য (Constitutional Mandate) নির্ধারিত হতে চলেছে। ৪ মে ফলাফল।
কেন এই নাটকীয় পরিবর্তন?
২০২১ সালে আট দফার দীর্ঘ ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল। কমিশন জানিয়েছে, মূলত ‘সাধারণের সুবিধা’র (Comfort) কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। কমিশনের দুই দিনের সাম্প্রতিক বাংলা সফরে একাধিক রাজনৈতিক দল দাবি তুলেছিল যে, দফার সংখ্যা কমানো হোক। দীর্ঘ প্রচার পর্বের ফলে প্রার্থী ও দলগুলোর খরচ যেমন মাত্রাছাড়া হয় (Election Expenditure), তেমনই সাধারণ ভোটারদের কাছেও পুরো প্রক্রিয়াটি একঘেয়ে ও ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও কৌশল
এই দ্রুত নির্বাচনের পেছনে আরও একটি বড় কারণ হলো বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ। আগামী ৭ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ (Meeting Tenure) শেষ হচ্ছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, এই সময়ের আগেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন সরকার গঠন করা বাধ্যতামূলক। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং মেয়াদের শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়াতেই এপ্রিলের মধ্যেই ভোট মিটিয়ে ফেলার কৌশল নিয়েছে কমিশন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দফায় ভোট হওয়ার অর্থ হলো পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর চাপ যেমন বাড়বে, তেমনই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তবে দীর্ঘস্থায়ী প্রচারের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে চলেছে রাজনৈতিক দলগুলো।
