কল্লোল মজুমদার, মালদা: ঘড়ির কাঁটা ১১টার ঘরে পৌঁছাতেই রাজ্যের রাজনৈতিক ছবিতে স্পষ্ট পরিবর্তনের (West Bengal Election Outcomes 2026) ইঙ্গিত। মালদার রবীন্দ্র অ্যাভিনিউ সংলগ্ন চত্বরে উচ্ছ্বাস এবং হতাশার ছবি। এখানকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অস্থায়ী ক্যাম্পগুলির পরিবেশে নাটকীয় বদল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। পরিবর্তনের ঝড়ের ইঙ্গিত মনে করাচ্ছিল ২০১১ সালকে। পরিবর্তন শুধু রংয়ে। দেড় দশক আগে উড়েছিল সবুজ আবির, এবার গেরুয়া।
ঘড়ির কাঁটা যত সময়কে এগিয়ে নিয়ে দুপুরের দিকে গড়িয়েছে, ততই রবীন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের একপ্রান্তে থাকা বিজেপির ক্যাম্পে উল্লাসের মাত্রা বেড়েছে ততই। গেরুয়া আবিরে রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ, পুড়তে থাকে বাজি, আর কর্মী-সমর্থকদের মুখে মুখে শুধুই জয় শ্রীরাম ধ্বনি। নতুন এক উৎসবের আবহ বিজেপির ট্রেন্ডকে ঘিরে। যা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে গোটা মালদা (Malda) শহরে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রবীন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের দিকে ছুটে আসতে থাকেন বিজেপি সমর্থকরা। ক্যাম্পের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষও। সমীর দাস নামের এক বিজেপি কর্মীকে বলতে শোনা যায়, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে, অপপ্রচার চালিয়েছিল তৃণমূল। এবার আমরা সবাইকে মাছভাত খাইয়ে বিজয় উৎসব পালন করব।’
আরেক প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাম্পে একটা সময় হতাশার মাঝেও আশার আলো দেখা গিয়েছে। ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব, মনে করে বসে ছিলেন কিছু কর্মী। তবে বেলা ১টা নাগাদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য সামনে আসতেই, তৃণমূল কর্মীদের মুখে অনিশ্চয়তা আর হতাশার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তৃণমূল কর্মীরা ক্যাম্প ছেড়ে বাড়ির পথে পা বাড়াতে থাকেন। জেলার ১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি কেন্দ্র দখল করলেও, তৃণমূলের এই হতাশার মূল কারণ রাজ্যের ক্ষমতাচ্যুত হওয়া। রাজ্যে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়, মেনে নিতে পারছেন না কোনও তৃণমূল সমর্থকই।
বিজেপির (BJP) ক্যাম্প থেকে মাত্র ১০ মিটার দূরে থাকা বামফ্রন্টের ক্যাম্পে ছিল বিপরীতধর্মী ছবি। সকালে যে ক্যাম্পে কর্মীদের আনাগোনা ছিল, বেলা বাড়তেই তা কার্যত শুনসান হয়ে পড়ে। হাতেগোনা কয়েকজন কর্মী চুপচাপ বসে থাকেন। মুখে কোনও কথা ছিল না তাঁদের, চোখেমুখে স্পষ্ট হতাশার ছাপ। ফলাফলের প্রবণতা তাঁদের আশাভঙ্গ করেছে স্পষ্ট হচ্ছিল শরীরী ভাষায়। ক্যাম্পে না ছিল স্লোগান, না কোনও কর্মতৎপরতা, ছিল শুধুই নীরবতা। সুব্রত দাস নামে এক কর্মী হতাশা প্রকাশ করে বললেন, ‘আমরা না পারলাম হিন্দু ভোটে ভাগ বসাতে, না পারলাম সংখ্যালঘু ভোট দলের দিকে টানতে। কর্মীদের গুরুত্ব না দেওয়ার ফল। ঘুরে দাঁড়াতে নীতির পরিবর্তন খুবই জরুরি।’
রাজনৈতিক এই পালাবদলের দিনে রবীন্দ্র অ্যাভিনিউ যেন হয়ে উঠেছিল রাজ্যের সামগ্রিক নির্বাচনি চিত্রের প্রতিফলন, একদিকে উল্লাস, অন্যদিকে গভীর হতাশা।
