উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর থেকে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া (West Asia Battle)। এই সংকটের আবহে ভারতের ঘরোয়া বাজারে জ্বালানি, গ্যাস এবং সারের জোগান স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করল কেন্দ্র। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের সামগ্রিক শক্তি (Strategic Petroleum Reserve) পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
জ্বালানি নিরাপত্তায় কেন্দ্রের ‘মাস্টারপ্ল্যান’
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের রণকৌশল মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে। প্রথমত কোনওভাবেই যাতে পেট্রোলিয়াম, এলপিজি বা সারের ঘাটতি না হয়, তার জন্য বিকল্প রুট এবং আমদানির উৎস নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে রাজ্যগুলিতে চিরুনি তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এলপিজি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নজরদারিতে পারস্য উপসাগর
শিপিং মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ভারতের ২২টি জাহাজ এবং ৬১১ জন নাবিক বর্তমানে নিরাপদে রয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে আসা এলপিজি-বাহী জাহাজটি ইতিমধ্যেই নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছেছে, যা ভারতের জন্য স্বস্তির খবর। উল্লেখ্য, এই সংকটের কথা মাথায় রেখে ম্যাঙ্গালোর বন্দরে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শিল্পের ওপর। শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম গত কয়েক দিনে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে লিটার প্রতি ১০৯.৫৯ টাকায় পৌঁছেছে (Industrial Diesel Worth Hike)। এই মূল্যবৃদ্ধি যাতে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর প্রভাব না ফেলে, তার জন্য অর্থমন্ত্রী ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
