উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০১১ সালের ‘পরিবর্তন’-এর কারিগরদের অন্যতম জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick) ওরফে বালুর রাজনৈতিক জীবনে বড়সড় ছন্দপতন ঘটল। দীর্ঘ ২৬ বছর পর হারের মুখ দেখলেন উত্তর ২৪ পরগনার এই দাপুটে নেতা। হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম কয়েক রাউন্ডে এগিয়ে থাকলেও, শেষপর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলের কাছে ২৩ হাজার ৮০০ ভোটে পরাজিত হলেন তিনি (WB Election Consequence 2026)।
তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) ছায়াসঙ্গী ছিলেন বালু। ২০০১ ও ২০০৬ সালে গাইঘাটা থেকে বিধায়ক হওয়ার পর, ২০১১ সালে আসন বদলে হাবড়ায় আসেন। এরপর ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১—টানা তিনবার হাবড়া থেকে জয়ী হন। দলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সংগঠনের রাশ দীর্ঘকাল তাঁরই হাতে ছিল। খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে ১০ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালে তিনি বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
২০২৩ সালের অক্টোবরে রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তার হন বালু। প্রায় ১৪ মাস জেল খাটার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জামিন পান তিনি। দুর্নীতির অভিযোগে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দল ত্যাগ করলেও, বালুর ক্ষেত্রে তৃণমূলের অবস্থান ছিল ভিন্ন। জেলমুক্তির পর দল তাঁকে বারাসত সাংগঠনিক জেলার কোর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করে এবং বিধানসভার টিকিটও দেয়। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং তাঁর হয়ে প্রচারে গিয়ে গ্রেপ্তারিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
২০২১ সালের নির্বাচনেই বালুর জয়ের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৩,৮৪১ ভোটে। এবারের নির্বাচনে দুর্নীতির অভিযোগ, জেলবাস এবং বিরোধীদের ‘চালচোর’ কটাক্ষ সম্ভবত ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। তাঁর পছন্দের আসন বারাসতের বদলে দল তাঁকে হাবড়াতেই প্রার্থী করেছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না; যে ‘পরিবর্তনের’ ঢেউয়ে তিনি প্রথমবার হাবড়া জিতেছিলেন, ১৫ বছর পর সেই একই ঢেউয়ে তাঁর তরী ডুবল।
এই পরাজয় কেবল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ব্যক্তিগত হার নয়, বরং দুর্নীতি ইস্যুতে অভিযুক্ত নেতার ওপর পুনরায় আস্থা রাখার ক্ষেত্রে তৃণমূলের কৌশলের ওপরও বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল।
