Viral Lankapara Highway | আমোদ-লড়াইয়ের ভিন্ন ছবি ‘ভাইরাল রোডে’

Viral Lankapara Highway | আমোদ-লড়াইয়ের ভিন্ন ছবি ‘ভাইরাল রোডে’

শিক্ষা
Spread the love


মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া: সোশ্যাল মিডিয়ায় রাস্তাও ভাইরাল হয়! হ্যাঁ হয়। ভুটান সীমান্তঘেঁষা লঙ্কাপাড়া চা বাগানে সম্প্রতি নির্মিত একটি পাকা রাস্তার ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Viral Lankapara Highway)। ভুটান পাহাড়ের পাদদেশে খোলা আকাশের নীচে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়া যায়। তাই দূরদূরান্তের মানুষ ওই রাস্তায় পছন্দের বিকেল কাটাতে ভিড় জমাচ্ছেন। ছবি-ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন। তাতে লাইক-কমেন্ট পড়ছে, শেয়ার হচ্ছে দেদার। তবে এই বিলাসিতার অপরদিকেই চোখে পড়ে ভাত জোটানোর লড়াই। জনসমাগম দেখে দু’পয়সা রোজগারের আশায় পথের ধারে চিপস, মোমোর পসরা সাজিয়ে বসেন বন্ধ বাগানবাসী। আর্থিক সামর্থ্যের নিরিখে পরস্পরের বিপরীতে থাকা দুটি ছবি যেন বড় বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে ওই রাস্তায়।

১১ বছর ধরে বন্ধ বাগানের উত্তরপ্রান্তে আড়াই বছর আগে একটা পিকনিক স্পট ও ইকো পার্ক তৈরি হয়েছিল। ছুটির মরশুমে হাজার হাজার মানুষ গিয়েছেন লঙ্কাপাড়ায়। তবে রাজ্যে পালাবদলের পরই টালমাটাল অবস্থা ইকো পার্কের পরিচালকদের। বর্তমান শাসকদল ইকো পার্ক চালানোর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আর এতেই গুটিয়ে গিয়েছেন লঙ্কাপাড়ার অনেকেই। ইকো পার্কের কাছে কয়েকটি দোকান চলত। তাই এবার কর্মহারা শ্রমিক পরিবারগুলি ‘ভাইরাল রোডে’ মোমো, চাউমিন, চিপস বিক্রি করছেন সংস্থানের আশায়। লঙ্কাপাড়া চা বাগান থেকে ধুমচিপাড়া চা বাগান পর্যন্ত সবুজের বুক চিরে ৬ কোটি ২৭ লক্ষ টাকায় তৈরি ৭.৬১ কিলোমিটার রাস্তাই এখন তাঁদের জীবনধারণে সাহায্য করছে।

বন্ধ বাগানের বর্তমান প্রজন্মের একটা অংশ ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক। কেউ কেউ নদী থেকে বালি-বজরি তুলতেন বা ট্রাক, ডাম্পার চালাতেন। ওঁদেরই একজন আকাশ লোহার। পালাবদলের পর নদী থেকে বালি-বজরি তোলা বন্ধ। তাই আকাশ এখন দিনমজুর। স্টিয়ারিং ধরা হাতে এখন হাঁসুয়া চালিয়ে ঝোপঝাড় সাফাইয়ের কাজ করছিলেন। অসহায় গলায় বললেন, ‘কবে গাড়ি চালাতে পারব জানি না।’ এদিকে, ওই ‘ভাইরাল’ রাস্তাটার পাশে একটা পলিথিন শিট টাঙিয়ে কয়েকটা চিপস-এর প্যাকেট নিয়ে দিনভর প্রতীক্ষা করেন উচ্চমাধ্যমিক পাশ আয়ুষ মঙ্গর। বিকেলে বানান মোমো। আর্থিক অনটনে কলেজে পড়া হয়নি। আয়ুষের স্বপ্ন, এভাবেই স্বনির্ভর হবেন।

লঙ্কাপাড়ার একসময়ের শ্রমিক বয়স্ক সুভাষ লোহার এখন দিনমজুর। তবে কাজ জোটে না বেশিরভাগ দিন। বাগানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করতেই কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকার পর তিনি বললেন, ‘বাগান খুললেও আমি আর কাজ পাব না। অবসরের বয়স হয়েছে। তবে বাগানটা খুলুক নতুন সরকার। বাকিরা বাঁচুক।’ এদিকে আকাশ, আয়ুষ বা সুভাষদের বিপরীতে রয়েছে শিক্ষিত-চাকরিজীবী যুব সম্প্রদায়। ‘ভাইরাল রোডে’ তারা খোঁজে রোমান্টিকতার খোরাক। যেমন স্বাস্থ্যকর্মী সুলেখা ইয়াসিন বীরপাড়া থেকে ১৮ কিলোমিটার স্কুটি চালিয়ে লঙ্কাপাড়ায় গিয়েছিলেন কেবলমাত্র ওই রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে, রিল বানাতে। সুলেখা বলছিলেন, ‘জায়গাটা সত্যিই ভীষণ সুন্দর। বীরপাড়ায় কংক্রিটের জঙ্গলে সারাদিন কাজ করে হাঁফিয়ে উঠি। তাই লঙ্কাপাড়ায় সত্যিই ভালো লেগেছে।’ সুলেখার সঙ্গে ছিলেন আমিনা খাতুন, মানসী রায়, শিক্ষিকা সোমা সূত্রধররাও।

সোশ্যাল মিডিয়ায় রাস্তাও ভাইরাল হয়! হ্যাঁ হয়। ভুটান সীমান্তঘেঁষা লঙ্কাপাড়া চা বাগানে সম্প্রতি নির্মিত একটি পাকা রাস্তার ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ভুটান পাহাড়ের পাদদেশে খোলা আকাশের নীচে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়া যায়। তাই দূরদূরান্তের মানুষ ওই রাস্তায় পছন্দের বিকেল কাটাতে ভিড় জমাচ্ছেন। ছবি-ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন। তাতে লাইক-কমেন্ট পড়ছে, শেয়ার হচ্ছে দেদার। তবে এই বিলাসিতার অপরদিকেই চোখে পড়ে ভাত জোটানোর লড়াই। জনসমাগম দেখে দু’পয়সা রোজগারের আশায় পথের ধারে চিপস, মোমোর পসরা সাজিয়ে বসেন বন্ধ বাগানবাসী। আর্থিক সামর্থ্যের নিরিখে পরস্পরের বিপরীতে থাকা দুটি ছবি যেন বড় বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে ওই রাস্তায়।

১১ বছর ধরে বন্ধ বাগানের উত্তরপ্রান্তে আড়াই বছর আগে একটা পিকনিক স্পট ও ইকো পার্ক তৈরি হয়েছিল। ছুটির মরশুমে হাজার হাজার মানুষ গিয়েছেন লঙ্কাপাড়ায়। তবে রাজ্যে পালাবদলের পরই টালমাটাল অবস্থা ইকো পার্কের পরিচালকদের। বর্তমান শাসকদল ইকো পার্ক চালানোর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আর এতেই গুটিয়ে গিয়েছেন লঙ্কাপাড়ার অনেকেই। ইকো পার্কের কাছে কয়েকটি দোকান চলত। তাই এবার কর্মহারা শ্রমিক পরিবারগুলি ‘ভাইরাল রোডে’ মোমো, চাউমিন, চিপস বিক্রি করছেন সংস্থানের আশায়। লঙ্কাপাড়া চা বাগান থেকে ধুমচিপাড়া চা বাগান পর্যন্ত সবুজের বুক চিরে ৬ কোটি ২৭ লক্ষ টাকায় তৈরি ৭.৬১ কিলোমিটার রাস্তাই এখন তাঁদের জীবনধারণে সাহায্য করছে।

বন্ধ বাগানের বর্তমান প্রজন্মের একটা অংশ ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক। কেউ কেউ নদী থেকে বালি-বজরি তুলতেন বা ট্রাক, ডাম্পার চালাতেন। ওঁদেরই একজন আকাশ লোহার। পালাবদলের পর নদী থেকে বালি-বজরি তোলা বন্ধ। তাই আকাশ এখন দিনমজুর। স্টিয়ারিং ধরা হাতে এখন হাঁসুয়া চালিয়ে ঝোপঝাড় সাফাইয়ের কাজ করছিলেন। অসহায় গলায় বললেন, ‘কবে গাড়ি চালাতে পারব জানি না।’ এদিকে, ওই ‘ভাইরাল’ রাস্তাটার পাশে একটা পলিথিন শিট টাঙিয়ে কয়েকটা চিপস-এর প্যাকেট নিয়ে দিনভর প্রতীক্ষা করেন উচ্চমাধ্যমিক পাশ আয়ুষ মঙ্গর। বিকেলে বানান মোমো। আর্থিক অনটনে কলেজে পড়া হয়নি। আয়ুষের স্বপ্ন, এভাবেই স্বনির্ভর হবেন।

লঙ্কাপাড়ার একসময়ের শ্রমিক বয়স্ক সুভাষ লোহার এখন দিনমজুর। তবে কাজ জোটে না বেশিরভাগ দিন। বাগানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করতেই কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকার পর তিনি বললেন, ‘বাগান খুললেও আমি আর কাজ পাব না। অবসরের বয়স হয়েছে। তবে বাগানটা খুলুক নতুন সরকার। বাকিরা বাঁচুক।’ এদিকে আকাশ, আয়ুষ বা সুভাষদের বিপরীতে রয়েছে শিক্ষিত-চাকরিজীবী যুব সম্প্রদায়। ‘ভাইরাল রোডে’ তারা খোঁজে রোমান্টিকতার খোরাক। যেমন স্বাস্থ্যকর্মী সুলেখা ইয়াসিন বীরপাড়া থেকে ১৮ কিলোমিটার স্কুটি চালিয়ে লঙ্কাপাড়ায় গিয়েছিলেন কেবলমাত্র ওই রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে, রিল বানাতে। সুলেখা বলছিলেন, ‘জায়গাটা সত্যিই ভীষণ সুন্দর। বীরপাড়ায় কংক্রিটের জঙ্গলে সারাদিন কাজ করে হাঁফিয়ে উঠি। তাই লঙ্কাপাড়ায় সত্যিই ভালো লেগেছে।’ সুলেখার সঙ্গে ছিলেন আমিনা খাতুন, মানসী রায়, শিক্ষিকা সোমা সূত্রধররাও।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *