উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আমেরিকার অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই এজেন্টের গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছেন ভেনিজুয়েলার এক অভিবাসী (Venezuelan Immigrant injured)। রবিবার টেক্সাসের (Texas) অস্টিন শহরের উত্তর অংশে একটি ট্রাফিক স্টপকে কেন্দ্র করে এই ঘটনাটি ঘটে। এর জেরে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান বহু মানুষ। অস্টিন (Austin) শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভেনেজুয়েলার ওই অভিবাসী বর্তমানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।
অস্টিন পুলিশের প্রধান লিসা ডেভিস স্পষ্ট করেছেন যে, এই অপারেশন বা গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় সিটি পুলিশ কোনোভাবেই যুক্ত ছিল না। মেয়র কার্ক ওয়াটসনও এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে জানিয়েছেন যে, এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্থানীয় পুলিশেরও ভূমিকা থাকা প্রয়োজন, যাতে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, অস্টিনের বাসিন্দাদের নিজেদের শহরে নিরাপদ বোধ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং একটি স্বচ্ছ তদন্তই কেবল এই ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতে পারে। তবে অভিযুক্ত ফেডারেল এজেন্ট শহরের বাইরে চলে গিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানান মেয়র। ট্রাভিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের পক্ষ থেকেও স্থানীয় পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের এই তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করার এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সরবরাহের জন্য ফেডারেল সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ কাসারও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন এবং অস্টিনে আইসিই-এর অতিরিক্ত অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
আহতর পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদানকারী আইনজীবী কেট লিংকন গোল্ডফিঞ্চ ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানান যে, ভুক্তভোগীর নাম উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ এবং তাঁর বয়স আঠাশ বছর। তাঁর কোনো অপরাধের রেকর্ড বা দেশ থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি জানান যে, ওই যুবকের বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতি ঠিক কী ছিল, সে সম্পর্কে তাঁর সঠিক ধারণা নেই। এদিকে পরিবার হাসপাতাল থেকে রোগীর শারীরিক অবস্থা বা অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পেতে রীতিমতো সংগ্রাম করেছে বলে জানান আইনজীবী।
ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জুলাই ও অগাস্ট মাসে দেশজুড়ে মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসেই টেক্সাসের হিউস্টনে কাজের জায়গায় যাওয়ার পথে ফেডারেল এজেন্টদের তাড়ার মুখে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো নামের বাহান্ন বছরের এক ব্যক্তি আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন। একই মাসে মেইন রাজ্যে জোয়ান সেবাস্তিয়ান নামের পঁচিশ বছরের এক কলম্বিয়ান নাগরিকও একইভাবে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে আহত হন। এসব লাগাতার ঘটনা এবং গত শীতে অ্যালেক্স প্রেটি ও রেনি গুডের মৃত্যুর ঘটনা মার্কিন প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও কঠোর এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমকে নতুন করে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলে দিয়েছে।

