উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : ভারতীয় রেলের ইতিহাসে যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন সোনালী অধ্যায়। গতি আর বিলাসের মিশেলে দূরপাল্লার যাত্রীদের রাতের সফরকে আরও আরামদায়ক করতে আসছে দেশের দ্বিতীয় ‘বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন’ (Amritsar to Varanasi)। আগামী ১৭ জুলাই পাঞ্জাবের জলন্ধর থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই প্রিমিয়াম ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে জলন্ধরের নবসজ্জিত বিশ্বমানের রেল স্টেশনটিরও উদ্বোধন করবেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের আধ্যাত্মিক নগরী বারাণসীর সঙ্গে পাঞ্জাবের পবিত্র ভূমি অমৃতসরের মেলবন্ধন ঘটাতে এই ট্রেনের নাম রাখা হয়েছে ‘সন্ত রবিদাস এক্সপ্রেস’। এই রুটটি চালুর ফলে শুধু দুই রাজ্যের দূরত্বই কমবে না, বরং উত্তর ভারত ও পূর্ব ভারতের মধ্যে ধর্মীয় পর্যটন (Non secular Tourism) এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রেলওয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রেনটি দৈনিক না চলে সপ্তাহে নির্দিষ্ট ৩ দিন করে উভয় দিক থেকে চলাচল করবে।
১. ছেহর্টা (অমৃতসর) থেকে বারাণসী (ট্রেণ নম্বর ১৪৬২৪):
- দিন: প্রতি বুধ, শুক্র এবং রবিবার।
- সময়: দুপুর ০২:০৫ মিনিটে ছেহর্টা থেকে ছাড়বে। অমৃতসর পৌঁছাবে দুপুর ০২:২৫ মিনিটে।
- পরের দিন: লখনউ পৌঁছাবে সকাল ০৭:৩০ মিনিটে এবং চূড়ান্ত গন্তব্য বারাণসীতে পৌঁছাবে দুপুর ১২:১৫ মিনিটে।
২. বারাণসী থেকে ছেহর্টা (ট্রেণ নম্বর ১৪৬২৩):
- দিন: প্রতি বৃহস্পতি, শনি এবং সোমবার।
- সময়: বারাণসী থেকে ছাড়বে সন্ধ্যা ০৭:০৫ মিনিটে। মাঝরাতে ১২:১০ মিনিটে পৌঁছাবে লখনউ।
- পরের দিন: বিকেল ০৪:৩৫ মিনিটে অমৃতসর হয়ে বিকেল ০৫:১০ মিনিটে ছেহর্টায় যাত্রা শেষ করবে।
যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় কেন্দ্রকে স্টপেজ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ট্রেনটির যাত্রাপথের প্রধান স্টপেজগুলি হলো, অমৃতসর, জলন্ধর সিটি, লুধিয়ানা, আম্বালা ক্যান্ট, সাহারানপুর, মোরাদাবাদ, বরেলি, শাহজাহানপুর, লখনউ, সুলতানপুর, জৌনপুর সিটি। রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সেমি-হাই-স্পিড বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ বা প্রাইমারি মেইনটেন্যান্স করা হবে পাঞ্জাবের ছেহর্টা স্টেশনে।
এতদিন বারাণসী থেকে অমৃতসর যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ দূরপাল্লার ট্রেনে দীর্ঘ সময় ব্যয় হতো। আধুনিক বায়ো-ভ্যাকুয়াম টয়লেট, সেন্সরযুক্ত জলের কল, ঝাঁকুনিহীন যাত্রা এবং উন্নত স্লিপার বার্থের সুবিধাযুক্ত এই বন্দে ভারত চালু হওয়ায় প্রবীণ নাগরিক ও পুণ্যার্থীদের সফর অনেকটাই আরামদায়ক হবে। বারাণসীর বিশ্বনাথ ধাম দর্শন করে পাঞ্জাবের স্বর্ণমন্দিরে যাওয়ার স্বপ্ন এখন মধ্যবিত্তের হাতের মুঠোয়। এই ট্রেন চালু হওয়া কেবল ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের প্রমাণ নয়, এটি ভারতের সংস্কৃতির দুই প্রধান মেরুকে জুড়ে দেওয়ার এক অনন্য প্রয়াস।

