উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি, এবার কেন্দ্রবিন্দুতে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মেনু (Vande Bharat menu)। হাওড়া-কামাখ্যা (Indian Railways) রুটের নতুন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে আমিষ খাবার না রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক তরজা। রেলের যুক্তি, ট্রেনটি মা কামাখ্যা ও মা কালীর মতো দুটি ‘পবিত্র’ স্থানকে সংযুক্ত করছে, তাই মেনুতে কেবল ‘স্বাস্থ্যকর ও পবিত্র’ নিরামিষ খাবার রাখা হয়েছে।
কিন্তু রেলের এই যুক্তিই বিতর্কের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় শাক্ত ঐতিহ্যে কামাখ্যা এবং কালীঘাট—উভয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠ। শাক্ত ধর্মাচরণে বলিদান প্রথা এবং দেবীকে আমিষ ভোগ নিবেদন করার রীতি বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে। সেখানে দাঁড়িয়ে, রেল কর্তৃপক্ষের এই ‘শুদ্ধতার’ ধারণাকে উত্তর ভারতীয় বৈষ্ণবীয় সংস্কৃতির জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া ফতোয়া হিসেবে দেখছে রাজ্যের শাসক দল।
বাঙালির আবেগ জড়িত এমন একটি বিষয়কে লুফে নিতে দেরি করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের কটাক্ষ, “প্রথমে ওরা আমাদের ভোটে নজরদারি করত, এখন আমাদের পাতের খাবারেও নজরদারি শুরু করেছে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি ঘটা করে বাংলা ও অসমের জন্য এই ট্রেনের উদ্বোধন করলেও, এই দুই রাজ্যের মানুষের প্রধান খাদ্যাভ্যাস অর্থাৎ মাছ-মাংস কেন মেনু থেকে বাদ পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।
তৃণমূলের অভিযোগ, এর আগেও প্রধানমন্ত্রী মাছ খাওয়া বাঙালিদের ‘মুঘল’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এখন ঘুরিয়ে সেই খাদ্যাভ্যাসের ওপরই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। দলের মতে, এটি কেবল খাবারের বিষয় নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। তাদের হুঁশিয়ারি, “আজ ওরা আমাদের খাবারে হাত দিয়েছে, কাল আমাদের পোশাক, ভালোবাসা এবং জীবনযাত্রার ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার চেষ্টা করবে।” ভোটের মুখে এই ‘প্লেট পলিটিক্স’ যে বাঙালির সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের প্রশ্নে বিজেপির অস্বস্তি বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।
