উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় দলের হয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলার পর ফের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরছে দেশের উদীয়মান তরুণ সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)। আসন্ন দলীপ ট্রফিতে (Duleep Trophy) পূর্বাঞ্চলের (East Zone) হয়ে মাঠে নামতে চলেছে সে। তবে শুধু খেলা নয়, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বিহারের এই কিশোর প্রতিভাকে বড় দায়িত্ব দিয়ে দলের সহ-অধিনায়কের (Vice-Captain) পদে বেছে নিয়েছেন পূর্বাঞ্চলের নির্বাচকরা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে এখন থেকেই দলীপের প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু করে দিয়েছে বৈভব।
ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক—যে প্রতিযোগিতাতেই নামুক না কেন, বৈভবকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের আগ্রহ সব সময়ই তুঙ্গে থাকে। কম বয়সে এমন সাফল্য পাওয়ায় তাঁর ওপর বাড়তি প্রত্যাশার চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে কোচেরা যেমন তাঁকে নিয়ে বাড়তি চাপ তৈরি করতে নারাজ, তেমনই বৈভবের নিজেরও এই প্রত্যাশার কথা অজানা নয়। আর সেই কারণেই প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখতে চাইছে না সে। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ব্যাটিং অনুশীলনের একটি ভিডিও পোস্ট করেছে বৈভব, যা ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের নজর কেড়েছে।
আসন্ন দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চল দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার ঈশান কিশন (Ishan Kishan)। এছাড়া দলে অভিমন্যু ঈশ্বরণ এবং অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামির (Mohammed Shami) মতো তারকারাও রয়েছেন। এত সব বাঘা বাঘা অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের উপস্থিতিতেও ১৫ বছরের বৈভবের হাতে সহ-অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তুলে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো—কম বয়সেই তাকে দলের কঠিন পরিস্থিতির দায়িত্ব নিতে শেখানো এবং মানসিকভাবে আরও পরিণত করে তোলা। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিহার দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তার রয়েছে, ফলে এই গুরুদায়িত্ব সামলানো তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন নয়।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খুব একটা বড় রান না পেলেও, জিম্বাবোয়ে সফরে দুর্দান্ত কামব্যাক করেছিল বৈভব। জিম্বাবোয়ে সিরিজে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। সেখানে মাত্র তিনটি ইনিংস খেলে ৫০.৩৩ গড়ে মোট ১৫১ রান করেছিলেন এই তরুণ তুর্কি। শুধু তাই নয়, জিম্বাবোয়ে সফরে বৈভবের বিধ্বংসী স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯৫.১০, যা টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও তার মারকাটারি মেজাজ স্পষ্ট করে দেয়। এবার দলীপের লাল বলের ক্রিকেটে সে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

