উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ : ক্রিকেট দুনিয়ায় তিনি পরিচিত এক মারকুটে ও নির্ভীক ব্যাটার হিসেবে। প্রতিপক্ষের বোলারদের ঘুম উড়িয়ে দেওয়াই যাঁর প্রধান ইউএসপি (USP)। কিন্তু সোমবারের দম্বুলা দেখল সম্পূর্ণ এক অন্য বৈভব সূর্যবংশীকে (Vaibhav Sooryavanshi)। ব্যাটে-বলের লড়াই ছাপিয়ে মাঠের মধ্যে এক চরম মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হলো এই ভারতীয় তরুণ তুর্কিকে। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ হতেই মাঠের মাঝেই প্রতিপক্ষের এক ক্রিকেটারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লেন তিনি। সেই ঘটনার ভিডিও নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হতেই ক্রিকেট মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সোমবারের ম্যাচটির সমাপ্তি ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। নির্ধারিত ওভারে ভারত ‘এ’ ও শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের লড়াই টাই হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে না পেরে হেরে যায় ভারতীয় ব্রিগেড। ম্যাচ হাতছাড়া হতেই তৈরি হয় সেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ম্যাচ শেষের পর বৈভবের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার এক ক্রিকেটারের তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে দু’জনেই একে অপরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে যেতে থাকেন। ঠিক কে প্রথম উসকানি দিয়েছিলেন বা কার দোষ কতটা ছিল, তা ভিডিওতে স্পষ্ট না হলেও এটুকু পরিষ্কার যে, প্রতিপক্ষের স্লেজিংয়ের মুখে পড়ে বৈভব নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের দাবি, এতদিন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল ক্রিজে সেট হয়ে যাওয়া বৈভবকে কীভাবে আউট করা যায়। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং বয়সের তুলনায় পরিণত ক্রিকেটবোধই ছিল তাঁর মূল শক্তি। কিন্তু দম্বুলার ঘটনাটি প্রতিপক্ষ বোলারদের এক নতুন দিশা দেখিয়ে দিল। বোলাররা হয়তো মনে মনে ভাবছেন— ‘যাক, বৈভবকেও তাহলে স্লেজিং করে উত্যক্ত করা সম্ভব!’
বিশ্ব ক্রিকেটের বড় বড় তারকাদের কেরিয়ারেও এমন সময় এসেছে, যখন প্রতিপক্ষ তাঁদের টেকনিকের চেয়ে মানসিক দৃঢ়তাকে পরীক্ষা করতে চেয়েছে। কেরিয়ারের শুরুতে সচিন তেন্ডুলকরকে স্লেজিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে, বিরাট কোহলিও বহুবার এমন ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা মাঠের সেই উসকানি বা আবেগকে পারফরম্যান্সে রূপান্তরিত করতে শিখেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি অত্যন্ত পরিচিত এক পুরোনো কৌশল— ‘যদি ব্যাট থামানো না যায়, তবে ক্রিকেটারের মনোযোগে আঘাত হানো’। দম্বুলায় বৈভবের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে।
দম্বুলার এই ঘটনা বৈভবের জন্য প্রথম নয়। গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ (U-19) এশিয়া কাপেও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈভবের এমন এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা সামনে এসেছিল। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি শৃঙ্খলাভঙ্গকারী, বরং তিনি অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত মুখ বলেই প্রতিপক্ষ দল সবসময় তাঁর মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করে।
ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে, দম্বুলার ঘটনাটিকে শুধুমাত্র একটি সাধারণ মাঠের ঝগড়া হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি বৈভবের কেরিয়ারের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা এবং একই সঙ্গে বড় শিক্ষা। এখন দেখার বিষয়, এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে প্রতিপক্ষের উসকানির জবাব তিনি কীভাবে মুখে না দিয়ে নিজের ব্যাট দিয়ে দেন।
