মাথাভাঙ্গা: মাথাভাঙ্গা বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অন্যতম বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পানীয় জলের অভাব। বিষয়টি নিয়ে বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মূল বাজারে প্রায় তিনশোটি স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান রয়েছে। প্রতিদিন শহরের পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকেও বহু মানুষ কেনাকাটার জন্য এই বাজারে আসেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজার সংলগ্ন এলাকায় পানীয় জলের কোনও স্থায়ী ব্যবস্থাই নেই। বাজারের সবজি ব্যবসায়ী সুধন দাস বলেন, ‘বাজারে রাস্তাঘাট বেহাল, নিকাশি ব্যবস্থা নেই, শৌচাগার যেমন নেই তেমনি নেই পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থাই। আমাদের রাস্তার পাশের পিএইচইর স্ট্যান্ডপোস্ট থেকে পানীয় জল বোতলে ভরে নিয়ে আসতে হয়।’
একই অভিযোগ মাথাভাঙ্গা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মনা দাসের। তিনি বলেন, ‘সারাদিন বাজারে ব্যবসা করি। সেখানে জল না থাকায় বাড়ি থেকেই পানীয় জল নিয়ে যেতে হয়। এদিকে বহু বছর আগে পুরসভার উদ্যোগে বাজারের উত্তর পাশে একটি পানীয় জলের রিজার্ভার নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে সেটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। প্রথম দিকে কিছুটা জল মিললেও এখন আর রিজার্ভার থেকে এক ফোঁটাও জল পাওয়া যায় না। ফলে বাজার থেকে দূরে রাস্তার ধারে পিএইচই-র স্ট্যান্ডপোস্ট থেকে জল সংগ্রহের উপর নির্ভর করতে হয়, যা সময়মতো না ধরতে পারলে অনেককেই কিনে জল খেতে হচ্ছে।’
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সাহা জানান, রিজার্ভারটি সচল করতে পুরসভার পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ওই স্থানে পিএইচইর পাইপলাইনে জলের ফ্লো না থাকায় রিজার্ভারে জল ওঠে না। তবে সম্প্রতি বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রথমে রিজার্ভারটি সংস্কার করে চালু করার চেষ্টা হবে। তাতেও সমস্যা মেটানো না গেলে, সেটি ভেঙে সেখানে পানীয় জলের ‘ওয়াটার এটিএম’ বসানো হবে।
বর্তমানে শহরের আদালত চত্বর, এনবিএসটিসি বাসস্ট্যান্ড ও বেসরকারি বাসস্ট্যান্ডে ইতিমধ্যেই তিনটি ওয়াটার এটিএম চালু হয়েছে। কয়েন চালিত এই কিয়স্ক থেকে ৫ ও ১০ টাকায় যথাক্রমে ১ ও ২ লিটার পরিস্রুত পানীয় জল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘পুরসভা অফিস চত্বরেও একটি পানীয় জলের ওয়াটার এটিএম বসানো হবে।’
