তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: কোচবিহার রাজবাড়ি এমনিতে সবসময় পর্যটকদের ভিড়ে সরগরম (Vacation spot Wedding ceremony Cooch Behar Palace)। অদূরভবিষ্যতে বিয়ের ভিড়ে রাজবাড়ির ব্যস্ততা হয়তো আরও বাড়তে পারে। পর্যটন দপ্তরের এমনটাই পরিকল্পনা। শুধু কোচবিহার নয়, কাঞ্চনজঙ্ঘা, চা বাগান আর পাহাড়ি সৌন্দর্যকে সাক্ষী রেখে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে উত্তরবঙ্গজুড়েই সুযোগ মিলতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গকে শুধু দেশের নয়, বিদেশের মানচিত্রেও ওয়েডিং ডেস্টিনেশন হিসেবে তুলে ধরতে পর্যটন দপ্তর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
এই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে দার্জিলিংয়ের সঙ্গে দিঘা ও পুরুলিয়ার মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো যুক্ত হচ্ছে। পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ এব্যাপারে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন ওয়েডিং প্ল্যানার ও হোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন। হোটেল ব্যবসায়ীরা প্ল্যানারদের সঙ্গে সহযোগিতায় থাকতে পারেন। এই ওয়েডিং প্যাকেজে কোচবিহারের পাশাপাশি কীভাবে জলপাইগুড়ির রাজবাড়িকে যুক্ত করা যায় তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
প্রিয়াংকা চোপড়ার কথা মনে আছে? নিজের বিয়ের দিনটিকে আরও বেশি স্মরণীয় করে তুলতে তিনি যোধপুরের তাজ উমেদ ভবন প্যালেসকে বেছে নিয়েছিলেন। বা ক্যাটরিনা কাইফ। তাঁর ওয়েডিং ডেস্টিনেশন ছিল রাজস্থানের সওয়াই মাধোপুরের ‘সিক্স সেনসেস ফোর্ট বারওয়ারা’। তবে শুধু সেলেবরা নন, শখের বশে এখন অনেকেই ডেস্টিনেশন ওয়েডিং করছেন। রাজস্থান ও গোয়া এ ধরনের পর্যটনের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। সেই ট্রেন্ড যাতে পশ্চিমবঙ্গে পাহাড় ও সমুদ্রেও নিয়ে আসা যায় সেদিকে নজর দিয়েই পর্যটন দপ্তর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিয়ের আগের ফোটোশুট থেকে বিয়ের বিভিন্ন রীতি, পুরোটা নিয়েই এই প্যাকেজ করা হবে। যাতে দেশের পাশাপাশি বিদেশের পর্যটকদেরও নজর কাড়ে।
পর্যটন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, পাহাড়ি শৈলশহরের কোন কোন প্রপার্টি ও হোটেল এই ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সেই সমীক্ষাও শুরু করা হয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরেও পর্যটনমন্ত্রী জোর দিতে চাইছেন। শংকরের কথায়, ‘এ ধরনের পর্যটনের জন্য গোয়া, রাজস্থান বিশ্ববিখ্যাত। বাংলায় সমুদ্র, পাহাড় থেকে শুরু করে রাজবাড়ি ও ঐতিহাসিক প্রাসাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। ডেস্টিনেশন ওয়েডিং সূত্রে বাংলাকেও সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য।’
বিশ্বজুড়ে যেহেতু দার্জিলিংয়ের আকর্ষণ রয়েছে, সেজন্য দার্জিলিংকে কেন্দ্র করে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের জন্য বিশ্বমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পর্যটন বিশেষজ্ঞ রাজ বসু বললেন, ‘দার্জিলিংয়ে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের পরিকাঠামো তৈরি হলে রাজ্যের পর্যটন উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় হসপিটালিটি শিল্প, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং পরিবহণ ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের পথ খুলবে।’
উত্তরবঙ্গে বিয়ের আগের ফোটোশুটের জন্য পাহাড়ের মতোই কোচবিহারের রাজবাড়ি জনপ্রিয়। ফোটোশুটের জন্য প্রতি বছর প্রচুর মানুষ এখানে আসে। এবারে ওয়েডিং ডেস্টিনেশনের জন্য রাজবাড়ির দরজা খুলে গেলে পর্যটনের অনেকটাই রমরমা বাড়বে বলে মন্ত্রী মনে করছেন। ঐতিহ্যবাহী এই রাজবাড়ি কীভাবে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং পর্যটনের আওতায় আনা যাবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে শংকর জানান। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের বাংলো বা হেরিটেজ হোটেলগুলি বিয়ের আয়োজনে দারুণ সাড়া ফেলেছে। এই পর্যটন জনপ্রিয় হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে বলে পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

