Uttar Dinajpur | শ্লীলতাহানিতে গ্রেপ্তার আইনজীবী

Uttar Dinajpur | শ্লীলতাহানিতে গ্রেপ্তার আইনজীবী

শিক্ষা
Spread the love


বিশ্বজিৎ সরকার, হেমতাবাদ: নাবালিকার শ্লীলতাহানি, মারধর ও বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে মঙ্গলবার শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থেকে উত্তর দিনাজপুর জেলা আদালতের এক আইনজীবীকে সস্ত্রীক গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের বাড়ি হেমতাবাদ থানা এলাকায়। বুধবার তাঁদের রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ধৃত আইনজীবীর জামিনের আবেদন খারিজ করে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। যদিও জামিন মঞ্জুর হয় ধৃতের স্ত্রীর।

ধৃতের পক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগ, ওই আইনজীবীকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের (Uttar Dinajpur) হেমতাবাদ থানার আইসি সুজিত লামা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটার অতনু দাস বলেন, ‘যেহেতু পকসো ধারায় মামলা রুজু হয়েছে, তাই ধৃতকে বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুর জেলা দায়রা আদালতের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট সেশন জজ কোর্টে তোলা হবে।’

প্রায় দু’মাস আগে, সেপ্টেম্বর মাসের ৭ তারিখ উত্তর দিনাজপুর জেলা আদালতের ওই আইনজীবী ও স্ত্রী সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এক নাবালিকার শ্লীলতাহানি, নাবালিকার পরিবারের তিন সদস্যকে মারধর ও তাঁদের বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ দায়ের হয়। যদিও এরপরই স্ত্রীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে ওই আইনজীবী মুম্বই চলে যান। মঙ্গলবার তিনি মুম্বই থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে মাটিগাড়ার একটি হোটেলে ঘরভাড়া নেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ওই হোটেলে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আইনজীবীর গ্রেপ্তার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ধৃতের আইনজীবীদের অভিযোগ, প্রভাস সাহা নামে যে পুলিশ অফিসার ওই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছেন, তাঁকে চলতি মাসের ৩ তারিখ হেমতাবাদ থানা থেকে স্থানান্তরিত করা হয়। কাগজে-কলমে তিনি আর ওই মামলার তদন্তকারী অফিসার নন। তাহলে তিনি কীভাবে ওই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করলেন? যদিও প্রভাস নিজে গ্রেপ্তার করেননি, তিনি ওই হোটেলে গিয়ে মাটিগাড়া থানার পুলিশকে ডেকে নেন। তাঁরাই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে বলে আদালত সূত্রে খবর।

ধৃতের আইনজীবী দীপ্তেশ ঘোষ বলেন, ‘প্রভাস সাহা অতি সক্রিয় হয়ে শিলিগুড়ি থেকে আমার মক্কেলকে কীভাবে গ্রেপ্তার করলেন, উচ্চ আদালতের বিচারককে তা জানাব।’ প্রসঙ্গত, ধৃতের পক্ষে ৮ জন আইনজীবী মামলাটি লড়ছেন। অগ্রিম জামিনের আবেদন করেন ১২ জন আইনজীবী। অভিযোগকারীর পক্ষে লড়ছেন উত্তর দিনাজপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সায়ন চৌধুরী সহ তিনজন।

ধৃত আইনজীবীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী-ও সেই তালিকায় রয়েছেন। ধৃত এখন ক্যানসারে আক্রান্ত প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে থাকেন। তাঁর চিকিৎসার জন্যই তিনি মুম্বই গিয়েছিলেন। ধৃত আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর এক প্রতিবেশীর জমি সংক্রান্ত বিবাদ চলছে। অভিযোগ, তিনি ও তাঁর স্ত্রী দলবল নিয়ে ওই প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলা করেন। বাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তিনজনকে ব্যাপক মারধর করা হয় এবং তাঁদের নাবালিকা মেয়ের শ্লীলতাহানি করেন ওই আইনজীবী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *