উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই লোহিত সাগরের বুকে মার্কিন নৌবাহিনীর গর্ব, বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড (USS Gerald Ford)-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনায় দুই মার্কিন নৌসেনা আহত হয়েছেন বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে।
রণতরীর অন্দরে কী ঘটেছিল?
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানবাহী এই রণতরীটি তখন সৌদি আরব উপকূলের অদূরে লোহিত সাগরে অবস্থান করছিল। হঠাৎই জাহাজের ভেতর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। প্রাথমিক তদন্তের পর সেন্টিকম জানিয়েছে:
• আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল জাহাজের ‘লন্ড্রি স্পেস’ বা কাপড় ধোয়ার ঘর থেকে।
• এটি কোনো শত্রুদেশের হামলা বা যুদ্ধজনিত ঘটনা নয়।
• অগ্নিনির্বাপক দলের চেষ্টায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
যান্ত্রিক পরিস্থিতি ও আহতদের অবস্থা
জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ফলে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট বা মূল যান্ত্রিক পরিচালন ব্যবস্থার কোনো ক্ষতি হয়নি। পেন্টাগন দাবি করেছে, ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ কার্যকর এবং তার রণকৌশলগত অবস্থানে অটল রয়েছে। আহত দুই নৌসেনাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড: আটলান্টিক থেকে লোহিত সাগর
২০২২ সালে ভার্জিনিয়া থেকে যাত্রা শুরু করা এই বিশালাকায় রণতরীটি মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তির অন্যতম প্রতীক।
• অতীত মিশন: নেটো (NATO)-র স্ট্রাইক কোরের অংশ হিসেবে আটলান্টিক মহাসাগরে কাজ করেছে।
• সাম্প্রতিক অভিযান: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনার অভিযানেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
• বর্তমান প্রেক্ষাপট: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে নেতৃত্ব দিচ্ছে এই জাহাজটিই।
কৌশলগত উদ্বেগ
যদিও পেন্টাগন এটিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, তবে ইরান উপকূলের এত কাছে এমন একটি স্পর্শকাতর যুদ্ধজাহাজে অগ্নিকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন ‘লন্ড্রি স্পেস’ থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার তত্ত্বটি নিয়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জল্পনা চলছে।
