উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : ভেনেজুয়েলায় অতর্কিতে ঢুকে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আমেরিকান বাহিনীর ‘অপহরণ’ করার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বিবৃতি জারি করল বেজিং। চিনের দাবি, অবিলম্বে মাদুরো দম্পতিকে মুক্তি দিতে হবে এবং কোনওভাবেই ভেনেজুয়েলার সরকার ফেলে দেওয়া চলবে না।
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা করেন, আমেরিকার বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করেছে। জানা গিয়েছে, খোদ শয়নকক্ষ থেকে সস্ত্রীক প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যান মার্কিন কমান্ডোরা। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং পরে সরাসরি নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসা হয় তাঁদের। বর্তমানে ব্রুকলিনের একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি রয়েছেন তাঁরা। বন্দি অবস্থায় মাদুরোর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল সংক্ষিপ্ত— ‘গুড নাইট। হ্যাপি নিউ ইয়ার।’
রবিবার সকালে চিনা বিদেশ মন্ত্রক থেকে দেওয়া দ্বিতীয় বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আমেরিকা জোর করে অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে তুলে নিয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের চরম লঙ্ঘন করেছে। চিনের দাবি, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। পেশিশক্তির মাধ্যমে কোনও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকার ভেঙে দেওয়া যাবে না।
বেজিং এই ঘটনাকে আমেরিকার ‘আধিপত্যবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে অভিহিত করেছে। ভেনেজুয়েলার আদালত ইতিমধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দিয়েছে। ক্ষমতা হাতে পেয়েই ডেলসি ট্রাম্প প্রশাসনকে কড়া বার্তা পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে খোদ আমেরিকার বুকেই বিক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তৈলভান্ডার দখল করতেই ট্রাম্পের এই অভিযান কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
