উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম ইরাকের আকাশে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মার্কিন বায়ুসেনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান (US Navy Airplane Crash Iraq)। শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু মেম্বারের প্রত্যেকেরই মৃত্যু হয়েছে। ইরান-মার্কিন চলমান উত্তেজনার মাঝে এই ঘটনা এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গত ১২ মার্চ ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন পশ্চিম ইরাকের আকাশে দুটি KC-135 ট্যাঙ্কার বিমান ওড়ে। আচমকাই একটি বিমান ভেঙে পড়ে, যদিও অন্যটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন সামরিক আধিকারিকদের মতে, এলাকাটি ‘ফ্রেন্ডলি এয়ারস্পেস’ বা মিত্রপক্ষের আকাশসীমার মধ্যেই ছিল। তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি ভেঙে পড়ল, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইরাকের একটি ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ ইতিমধ্যেই এই বিমানটি ভূপাতিত করার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই তারা বিমানটি ধ্বংস করেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে জানিয়েছে, শত্রু বা মিত্রপক্ষের কোনো গুলিতে (Hostile or Pleasant Fireplace) এই দুর্ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে এর যান্ত্রিক বা অন্য কোনও কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার এই সামরিক অভিযানে এই নিয়ে চতুর্থ কোনো মার্কিন বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ল। গত সপ্তাহেই কুয়েতি বাহিনীর ভুল লক্ষ্যভেদে (Pleasant Fireplace) তিনটি মার্কিন F-15E যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল, যদিও সেবার পাইলটরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। পেন্টাগনের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১৪০ জন আহত হয়েছেন।
বোয়িং নির্মিত এই KC-135 বিমানটি মার্কিন বিমান বাহিনীর (US Air Drive) মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। এটি মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমানগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করে, যা দীর্ঘ পাল্লার মিশনে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মটির ভেঙে পড়া আমেরিকার কাছে একটি বড় ধাক্কা।
