উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে নতুন আশার আলো (US-Iran Talks)। কাতারের রাজধানী দোহায় (Doha) মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাতারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এক বার্তায় আল আনসারি জানান, সাম্প্রতিক ‘লেক লুসার্ন সামিট’-এর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই এই আলোচনা এগিয়েছে। ইসলামাবাদ মেমোরান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এর ১৪টি পয়েন্ট (14-point MoU) নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেছে। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর এই আলোচনার পরবর্তী পর্যায় শুরু হবে।
এদিকে, ইরানের উপবিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, বৈঠকে লেবানন ইস্যুতে আমেরিকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার বিষয়টিকে তেহরান জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে। পাশাপাশি, ইরানের জব্দকৃত ৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সম্মত হয়েছে যে, ইরানের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের জন্য এই অর্থের একাংশ ব্যবহার করা হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদী। তিনি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার জেরে ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পর পরিস্থিতি বদলেছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ইরানকে কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের অনুপস্থিতিতেও কূটনৈতিক এই প্রক্রিয়া কতটা দীর্ঘস্থায়ী ও ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল বজায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই নিহত হন। আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন স্থানে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই দুই দেশের প্রতিনিধিদের পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

