উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই একতরফা ভাবে ‘শান্তি বৈঠক’-এর দিন ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তথাকথিত সেই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল ইরান। সোমবার ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Ismail Baghaei) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে বৈঠক নিয়ে তাঁদের কোনও আলোচনা হয়নি। ফলে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় যে শান্তি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে (US-Iran Stress)।
গত কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সম্প্রতি শান্তির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল ইরান ও আমেরিকা। কিন্তু সেই সমঝোতার পরও একে অপরের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুই দেশের বিরুদ্ধে। যার জেরে ৬০ দিনের প্রস্তাবিত শান্তিপ্রক্রিয়া এখন গভীর সঙ্কটে।
এরই মধ্যে সোমবার ইরান ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, “ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে আমেরিকা খুব ভালো কাজ করছে। মঙ্গলবার দোহায় এই বিষয়ে বৈঠক রয়েছে। ইরানের প্রতিনিধিরা কাতারে যাচ্ছেন। আমার মনে হয় ওরা ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছেন কিংবা প্রস্তুতি শুরু করেছেন। দেখা যাক কী হয়। তবে আমরা যুদ্ধে প্রায় জিতেই গেছি। আমরা চাই না ওদের কাছে পারমাণু অস্ত্র থাকুক, আর থাকবেও না। তারা এতে সম্মত।”
ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর দাবির পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। দেশটির বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাফ বলেন, “আমেরিকার সঙ্গে কোনও বৈঠক হচ্ছে না। এই বিষয়ে কোনও আলোচনাও হয়নি। এমনকি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে কোনো কথা হয়নি।”
তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা দোহাতে শুধুমাত্র একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে। এই দলটি মূলত ইরানের বাজেয়াপ্ত করা তহবিল উদ্ধারের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে, কিন্তু মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো ধরণের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবে না।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মাইন নিষ্ক্রিয় করার বিষয়ে ফ্রান্সের দেওয়া একটি বিশেষ পরিকল্পনাও সরাসরি খারিজ করেছে তেহরান। এই ‘সংবেদনশীল ও জটিল পরিস্থিতিতে’ প্যারিসকে কোনো রকম উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালিতে (Hormuz Strait) একাধিক জাহাজে ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে। আমেরিকার দাবি, এই হামলার জবাবেই তারা ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পালটা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পালটা আঘাত হেনেছে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের শান্তি বৈঠকের বার্তা ছাপিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

