উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গত তিন দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে লাগাতার পাল্টা বিমান হামলা চালাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সামরিক সংঘাতের আবহে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US-Iran Pressure)।
ইরানি সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, বুশেহর, চোগাদাক এবং কোনারক শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কোনারক নৌঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলার খবর মিলেছে। বুশেহর ও চোগাদাকে অন্তত ৬টি এবং কোনারকে ৩টি বিস্ফোরণ ঘটেছে।
যদিও সরকারি সংবাদসংস্থা ‘ইরনা’ বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের খবর পুরোপুরি স্বীকার করেনি। তবে তাদের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বুশেহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন ও ইজরায়েলি মিসাইল আঘাত হেনেছে। সবশেষ মার্কিন হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জরুরি আলোচনা করেছেন। দুই নেতা উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সমন্বয় অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। ট্রাম্প সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপ সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে অবহিত করেছেন।
পাশাপাশি, নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সীমান্তে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা ট্রাম্পের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। হরমুজ প্রণালীতে ঘটনার পর ট্রাম্প আগেই তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যেই দীর্ঘ ১২১ দিন পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে বৃহস্পতিবার সমাধিস্থ করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে নতুন মোড় নিয়েছে, তা এই সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনীর এই কঠোর সামরিক অভিযানের ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে।

