উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পারস্য উপসাগরে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনায় ফের উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য। হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) পানামা-পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘কিকু’-তে হামলার জেরে গত ৪৮ ঘণ্টায় ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে পরপর দু’দফা বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা (US-Iran Battle)। এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি ফের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে, তবে ইরানের ‘অস্তিত্বই থাকবে না’।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন মজুত কেন্দ্র, রাডার স্টেশন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নজরদারি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইরান ফের হামলা চালালে আমেরিকা কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
এই পরিস্থিতির পালটা হিসেবে তেহরান সরাসরি মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করার হুমকি দিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের নৌ-কমান্ডার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো ‘নরক’ দেখতে চলেছে। ইরানের এই হুঁশিয়ারির পরেই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ইতিমধ্যে ইরান পালটা আঘাত হিসেবে কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরিনের মার্কিন নৌ-ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কুয়েত প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ড্রোনগুলিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বজায় থাকলেও, পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরান বারংবার প্ররোচনা দিচ্ছে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে, ইরানের দাবি, তারা কেবল নিজেদের জলসীমায় নজরদারি বজায় রাখছে। এই দুই শক্তির দ্বন্দ্বে আবারও নতুন করে বড়সড়ো যুদ্ধের ছায়া গ্রাস করেছে মধ্যপ্রাচ্যকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে এবং গোটা অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

