উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ফের সামরিক উত্তেজনা চরমে (US-Iran Battle)। মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপে (Qeshm Island) হামলার চালানোর পর, বুধবার কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি (US navy bases) লক্ষ্য করে পালটা মিসাইল ও ড্রোন হামলার দাবি করল ইরান। এই ঘটনার ফলে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কার্যত যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, কেশম দ্বীপে ইরানের একটি টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্টেনা এবং একটি তেল ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার বদলা নিতেই তারা এই ‘কঠিন পদক্ষেপ’ নিয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের তরফ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, আমেরিকা অতীতে কোনও আগ্রাসন চালালে ইরান যে ধরনের ‘কঠোর’ জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আজ রাতে তারা সেই প্রতিশ্রুতিই কার্যকর করেছে।
এই পরিস্থিতিতে কুয়েতের মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আকাশপথে আসা একাধিক ড্রোন ও মিসাইল তাদের অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। কুয়েতের (Kuwait) আকাশসীমায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আব্দুল আজিজ আল-ওতাইবি দেশবাসীকে সতর্ক করে জানান, সাধারণ মানুষ যেন কোনও ধ্বংসাবশেষ বা সন্দেহজনক বস্তুর কাছাকাছি না যান। যেকোনও ধরনের বিপদের মোকাবিলায় হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বাহরিনের (Bahrain) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও সতর্কতাসূচক সাইরেন বাজিয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) কেশম দ্বীপে ইরানের একটি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন ধ্বংস করার কথা স্বীকার করেছিল। এর পরেই ইরান এই প্রত্যাঘাতের দাবি তুলল। তবে বর্তমান উত্তেজনার আবহে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড কুয়েত ও বাহরিনে কোনও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের মতে, এটি ইরানের প্রোপাগান্ডা মাত্র।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তার চরম সংকট নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জ সহ বিভিন্ন শক্তিধর দেশ উদ্বিগ্ন। জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে, এই নতুন সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা বিশ্ব।
