উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ কয়েক মাসের চরম উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান। অবশেষে আমেরিকা ও ইরানের (US-Iran) মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হল (Peace deal)। এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে (MoU) ডিজিটাল স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তিটি ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরের পরপরই তা কার্যকর করা হয়েছে।
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এতে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর করেন। পরে ফ্রান্সের প্যারিসে এলিসি প্রাসাদে নৈশভোজের সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তির একটি নথিতে স্বাক্ষর করেন। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই সেই ভিডিও প্রকাশ করেছে।
এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হল বিগত চার মাসের সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় সচল করা। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
চুক্তির আওতায় আগামী ৬০ দিনের একটি ‘অঙ্গীকার সময়সীমা’ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ে কোনও পক্ষই নতুন কোনও নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক তৎপরতা বাড়াতে পারবে না। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ইরানকে কোনও বাধা ছাড়াই তেল বিক্রি এবং অবরুদ্ধ তহবিল ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। এই ৬০ দিনে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে।
তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না। অন্যদিকে, প্যারিসে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো ইরানেরও সীমিত পরিসরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকা অন্যায্য নয়। এছাড়া, এই চুক্তিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিধান রয়েছে এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশেই থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

