উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন মুলুকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (US birthright citizenship ruling) নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত পদক্ষেপ খারিজ করে দিল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জানিয়ে দিলেন, আমেরিকার মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় প্রত্যেক শিশুই জন্মগতভাবে মার্কিন নাগরিক। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনে জারি করা কার্যনির্বাহী নির্দেশটি কার্যত বাতিল হয়ে গেল এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে।
মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ধারা (Citizenship Clause) অনুযায়ী, আমেরিকার ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া যে কোনো ব্যক্তিই মার্কিন নাগরিক। এতদিন এই নিয়মই চলে আসছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, যারা অবৈধভাবে বা অস্থায়ী ভিসায় আমেরিকায় বসবাস করছেন, তাঁদের সন্তানদের এই অধিকার পাওয়া উচিত নয়। তাঁদের যুক্তি ছিল, এই শিশুরা আমেরিকার “অধিকারভুক্ত” (topic to the jurisdiction) নয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি মানতে নারাজ।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তাঁর রায়ে স্পষ্ট লিখেছেন, “আমেরিকার মাটিতে জন্মগ্রহণকারী বাবা-মায়ের সন্তানদের মার্কিন আইনের আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী এই প্রতিশ্রুতি আজও বজায় রাখা হচ্ছে।” তাঁর মতে, নাগরিকত্ব হলো অধিকার পাওয়ার অধিকার এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ, যা ওই সংশোধনীর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছিল।
ট্রাম্পের এই নির্দেশিকা ছিল তাঁর প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থানের অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে গত এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্টে মৌখিক শুনানির সময় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিম্ন আদালতের রায়ের পথেই হাঁটল শীর্ষ আদালত। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় মার্কিন রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক, কারণ এটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক ব্যাখ্যাকে আরও একবার সিলমোহর দিল।
রায়ের পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে অভিবাসনপন্থী অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলো এই রায়কে “সংবিধানের জয়” বলে অভিহিত করছে, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের পথে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত এক বড় বাধা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী নির্বাচনে এই রায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিষয়ক প্রচারণাকে কতটা প্রভাবিত করে।

