উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব এবং পরিকাঠামো জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন’ সংশোধনের পরেই কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইউপিআই পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকবে। তবে ভবিষ্যতে কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী লেনদেনের ওপর একটি নামমাত্র মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) বা ফি চালু করা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে যে, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (P2P) সমস্ত লেনদেন আগের মতোই বিনামূল্যে পরিচালিত হবে। এছাড়া ছোট ব্যবসায়ী এবং সাধারণ দোকানদারদের সিংহভাগ লেনদেনও কোনও চার্জের আওতায় আসবে না। একমাত্র একটি নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার ওপর বড় কোনও ব্যবসায়িক লেনদেন হলে তবেই সামান্য এমডিআর ফি প্রযোজ্য হতে পারে। মন্ত্রকের মতে, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তুলনায় এই চার্জ থাকবে অত্যন্ত কম এবং এটি কোনও ঢালাও ফি নয়।
সরকারের বক্তব্য, ইউপিআই-এর লেনদেন যে হারে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং প্রতারণা রোখার জন্য বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। কেবল সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করে এত বড় ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বেসরকারি সংস্থাসমূহকে আরও বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ক্ষেত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়ীদের ওপর মার্চেন্ট ফি বসালে পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের পকেটেই তার কোপ পড়বে। কারণ ব্যবসায়ীরা পণ্য বা পরিষেবার দাম বাড়িয়ে সেই টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকেই তুলে নেবেন। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা এবং রাস্তার হকারদের ওপর এটি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
যদিও কোনও আন্তর্জাতিক চাপ বা বহিরাগত প্রভাবে এই বিল পাশ করানো হয়েছে বলে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, ভারতের তৈরি এই অভিনব ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।

