উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ২০২৭ সালের হাইভোল্টেজ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে (UP Meeting Election 2027) সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে বিরোধী শিবির। রাজ্যের শাসক দল বিজেপিকে উৎখাত করতে এবার আসন সমঝোতা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আলোচনার শুরুতেই এসপির হাতে প্রায় ১৭০টি বিধানসভা আসনের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তুলে দিয়েছে কংগ্রেস।
ভোটের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা এবং তৃণমূল স্তরে দলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট আসনগুলিকে A, B, C ও D—এই চারটি বিভাগে ভাগ করেছে কংগ্রেস।
A ক্যাটেগরি: এই আসনগুলি নিয়ে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, ফলে এই ক্ষেত্রে জোট সমঝোতার সুযোগ অত্যন্ত কম।
B ক্যাটেগরি: এই বিভাগের কিছু আসনে সামান্য রদবদল হতে পারে।
C ও D ক্যাটেগরি: এই আসনগুলি নিয়েই মূলত এসপির সঙ্গে আলোচনা ও দরকষাকষি চালাতে রাজি রয়েছে হাত শিবির।
যদিও ঠিক কতগুলি আসনে তারা লড়তে চায়, সে বিষয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক এই মুহূর্তে জানানো হয়নি, তবে জোটে অত্যন্ত সম্মানজনক সংখ্যক আসন পাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দুই দলের নেতাদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ৪০৩টি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে ৬টি আসনে কংগ্রেসের জয় এবং উত্তর ভারতে রাহুল গান্ধীর ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতাকে হাতিয়ার করে এবার বিধানসভা নির্বাচনে আরও বড় ভূমিকা চাইছে কংগ্রেস। দলের একাংশের ইঙ্গিত, ১১৫ থেকে ১২০টির কম আসনে লড়াই করতে রাজি নয় তারা। এমনকি উত্তরপ্রদেশে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতমও বিধানসভার অন্তত ৫০ শতাংশ আসনে লড়াইয়ের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে ১১৪টি আসনে লড়েছিল কংগ্রেস। তবে সাম্প্রতিককালে সাহারানপুরের সাংসদ ইমরান মাসুদের মন্তব্য ঘিরে দুই দলের মধ্যে সামান্য টানাপোড়েনের ইঙ্গিতও মিলেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেবল এসপিকে সরকার গড়তে সাহায্য করার জন্য কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা বিসর্জন দেবে না। অন্যদিকে, এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব জানিয়েছেন, শরিকদের সঙ্গে জোট বজায় থাকলেও ‘আসন সংখ্যা নয়, জয়ই হবে সমঝোতার মূল মন্ত্র’।
যোগীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ফলে রাজ্যে যে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া (Anti-incumbency) তৈরি হয়েছে, তাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাইছে বিরোধী শিবির। দলিত, সংখ্যালঘু এবং অ-যাদব ওবিসি ভোটারদের মধ্যে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব ও সংবিধান রক্ষার বার্তা জোরদার প্রভাব ফেলছে বলে দাবি কংগ্রেসের। এই মুহূর্তে সংগঠনের শক্তি বাড়াতে উত্তরপ্রদেশের সমস্ত আসনেই ‘সংগঠন সৃজন’ কর্মসূচি চলছে। পাশাপাশি, আগামী দিনে বলিয়া থেকে মেরঠ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ পদযাত্রারও পরিকল্পনা করছে কংগ্রেস।

