CM Shuvendu Adhikari | ‘আগে শাসকের আইন ছিল, এখন আইনের শাসন হবে!’ পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

CM Shuvendu Adhikari | ‘আগে শাসকের আইন ছিল, এখন আইনের শাসন হবে!’ পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: “আগে শাসকের আইন ছিল, এখন আইনের শাসন হবে।” পুলিশ প্রশাসনের আমূল সংস্কারে নেমে শুক্রবার ডায়মন্ড হারবার থেকে এই ভাষাতেই তীব্র কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Shuvendu Adhikari)। একই সঙ্গে এক লহমায় ভেঙে দিলেন ‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ (Police Welfare Board)। ডায়মন্ড হারবারে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই বোর্ডগুলি আসলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড (Police Welfare Board) তৈরি হলেও পরবর্তীকালে সেটি কার্যত রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত হয়। এর ফলে সাধারণ পুলিশকর্মীদের কতটা কল্যাণ হয়েছে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে। তবে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও বিজিতাশ্বর রাউতদের মতো কয়েকজন অফিসার যে এর মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন, তা অত্যন্ত স্পষ্ট। তাই জনস্বার্থে আজ থেকেই এই পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

একই সঙ্গে আমজনতার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশের দ্বারা কোনো সাধারণ নাগরিক যদি অত্যাচারিত হন, তবে তিনি সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। আইন সবার জন্য সমান।

পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে একগুচ্ছ বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এই বোর্ডগুলো উগ্র ট্রেড ইউনিয়নের আখড়া হয়ে উঠেছিল। আমি এগুলো ভেঙে দিলাম। আগামী ৩ মাসের মধ্যে নতুন কিছু করা হবে।” পুলিশি ব্যবস্থার এই আধুনিকীকরণ ও সংস্কারের লক্ষ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এই কমিটি আগামী ৩ মাসের মধ্যে নতুন রূপরেখা তৈরি করবে।

রাস্তাঘাটে টোটো, অটো কিংবা হকারদের কাছ থেকে পুলিশের একাংশ বা স্থানীয় স্তরে যে টাকা তোলার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশ, টোলের নামে বা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে কোনো রকম তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। টোটো, অটো বা হকারদের থেকে কেউ টাকা তুললেই সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য আমজনতাকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ প্রশাসন আগামীদিনে কীভাবে পরিচালিত হবে, তা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র আওতায় যে নিয়ম রয়েছে, সেই নিয়ম মেনেই এবার থেকে পুলিশকে চলতে হবে।”

আইনভঙ্গকারী বা পুলিশের একাংশের দুর্নীতি নিয়ে যেমন সরব হয়েছেন, তেমনই কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের সুরক্ষাকবচ নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের ওপর কোনো রকম আক্রমণ বা হামলা চালানো হলে সরকার তা বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *