উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশে সাড়া ফেলে দেওয়া উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে (Unnao Rape Case) দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারকে সাজা স্থগিত করে জামিনে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আর আদালতের এই রায়ের পরই রীতিমতো প্রাণহানির আশঙ্কায় ভুগছে উন্নাও নির্যাতিতা ও তার পরিবার। গতকাল দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে প্রতিবাদ চলাকালীন নির্যাতিতা এবং তাঁর মাকে জোর করে টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনা নিয়ে এদিন রীতিমতো উপহাস করেন উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওপি রাজভর। যখন সাংবাদিকরা ইন্ডিয়া গেট থেকে নির্যাতিতাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চান, রাজভর হাসতে হাসতে বলেন, ‘কিন্তু ওঁর বাড়ি তো উন্নাওয়ে…’। তাঁর এই অট্টহাসি ও বিদ্রুপের ভিডিও ইতিমধ্যেই বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইন্ডিয়া গেটের লনে আদালতের রায়ের প্রতিবাদে ধর্নায় বসে পুলিশি হেনস্থার শিকার হওয়ার পর নির্যাতিতা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার তখনই নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু পরিবারের কথা ভেবে আমি থেমে গিয়েছি।’ ২০১৭ সালের ধর্ষণ মামলায় সেঙ্গারকে জামিন দেওয়ার যে নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্ট দিয়েছে, তার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করছিলেন তাঁরা। বুধবার নির্যাতিতা জানিয়েছেন যে তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন।
মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট কিছু শর্ত আরোপ করে কুলদীপ সেঙ্গারকে জামিন দেয়। আদালত জানায়, সেঙ্গার নির্যাতিতার বাসভবনের ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে আসতে পারবেন না, এবং নির্যাতিতা বা তাঁর মাকে কোনওরকম হুমকি দিতে পারবেন না। এই শর্ত লঙ্ঘন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর জামিন বাতিল হবে। তবে অন্য একটি মামলায় ১০ বছরের সাজা ভোগ করায় সেঙ্গার এখনই জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।
এই রায়ে আতঙ্কিত নির্যাতিতা বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমার পরিবার, আইনজীবী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত আমরা আতঙ্কিত বোধ করছি।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এই ধরনের মামলায় দোষী যদি জামিন পায়, তবে দেশের মেয়েরা কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে? আমাদের কাছে এই সিদ্ধান্ত মৃত্যুর চেয়ে কম কিছু নয়। যাদের টাকা আছে তারাই জেতে, আর যাদের নেই তারা হারে।’
এক নজরে উন্নাও মামলা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য:
- ২০১৭: উন্নাওয়ে বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের বাড়িতে নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগ।
- ২০১৮: বিচার না পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাড়ির সামনে নির্যাতিতার আত্মহত্যার চেষ্টা। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতিতার বাবার মৃত্যু।
- ২০১৯: সড়ক দুর্ঘটনায় নির্যাতিতার দুই আত্মীয়র মৃত্যু এবং নির্যাতিতার গুরুতর জখম হওয়া। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলা দিল্লিতে স্থানান্তর।
- ২০২০: কুলদীপ সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ।
- ২০২৫ (ডিসেম্বর): দিল্লি হাইকোর্ট কর্তৃক সেঙ্গারের সাজা স্থগিত ও জামিন প্রদান।
