প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: একদিকে ফলন ভালো হলেও দাম নেই, অন্যদিকে অকাল বৃষ্টিতে পচছে আলু। পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) জেলার অর্থকরী ফসল আলু চাষ করে এবার লাভের মুখ দেখা তো দূর, ঋণের বোঝা টানতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। আর এই চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়েই ‘বিকল্প চাষে’র নামে পোস্ত চাষে (Unlawful Poppy Farming) ঝুঁকছেন জেলার কৃষকদের একাংশ। জামালপুর ব্লকের চকদিঘি পঞ্চায়েত এলাকার হরগোবিন্দপুর গ্রামে এমনই এক বেআইনি পোস্ত চাষের ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা জেলায়।
গ্রামের তরুণ চাষি মন্টু সাহানা সরকারি অনুমতির তোয়াক্কা না করেই তাঁর জমির একটি অংশে পোস্ত চাষ শুরু করেন। গাছে ফুল ও ফল ধরতেই বিষয়টি জানাজানি হয় এবং গ্রামে গুঞ্জন শুরু হয়। এ বিষয়ে মন্টু সাহানার সাফাই, “আলু চাষ করে চাষিদের কী হাল তা সবাই দেখছে। তাই আমাদের জলবায়ু ও মাটিতে পোস্ত চাষ সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছিলাম।” তবে আইনের বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি ঢোক গিলে স্বীকার করেন যে, এই সংক্রান্ত সব নিয়ম তাঁর জানা নেই।
আইনি প্যাঁচ ও প্রশাসনিক অবস্থান:
ভারতে আফিম-পোস্ত চাষ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। শুধুমাত্র মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশের নির্দিষ্ট কিছু বিজ্ঞাপিত এলাকা ছাড়া দেশের আর কোথাও পোস্ত চাষ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। পশ্চিমবঙ্গে এই চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জামালপুরের বিডিও পার্থসারথী দে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, “বাংলায় পরীক্ষামূলকভাবেও কেউ পোস্ত চাষ করতে পারেন না। যদি কেউ করে থাকেন, তবে তা বেআইনি। দ্রুত ওই গাছ নষ্ট করে দেওয়া হবে।”
ভোটের মুখে রাজনীতির ময়দান:
বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) প্রাক্কালে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসক-বিরোধী তর্জা তুঙ্গে। সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য কমিটির সদস্য বিনোদ ঘোষের বক্তব্য়, ’বিকল্প চাষে চাষিদের আগ্রহ থাকাটা ভালো। তা বলে পোস্ত চাষ নয়। সেটা বেআইনি কাজ হবে’। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল জমানায় আইনের শাসন না থাকাতেই এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছেন অনেকে। যদিও তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিক এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে কেউ বেআইনি কাজ করলে তার দায় সরকারের নয়। আলুর লোকসান মেটাতে গিয়ে কৃষকদের এই নিষিদ্ধ পথে পা বাড়ানো জেলা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এখন দেখার, প্রশাসন এই বেআইনি চাষ রুখতে কতটা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
