উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের (Ukraine Russia Conflict) অবসান কি তবে সময়ের অপেক্ষা? মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির (Zelensky) মধ্যে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকটি অন্তত সেই আশার আলোই দেখাচ্ছে। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, শান্তি আলোচনা এখন “আগের চেয়ে অনেক বেশি সন্নিকটে”। এই বৈঠককে “চমৎকার” বলে অভিহিত করে ট্রাম্প বিশ্ববাসীকে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।
শান্তি আলোচনার অগ্রগতি ও ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি: ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন। জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প তাঁর সেই প্রতিশ্রুতির খুব কাছে পৌঁছেছেন বলে মনে করছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা করেছি এবং অনেক দূর এগিয়েছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা একটি স্থায়ী সমাধানের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি।” তবে ট্রাম্প বাস্তববাদী অবস্থানে থেকে এও স্বীকার করেছেন যে, শান্তি আলোচনা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া এবং যেকোনো সময় সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতে এটি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাসত্ত্বেও জেলেনস্কি ও পুতিন—উভয় পক্ষই শান্তির বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিক বলে ট্রাম্প দাবি করেন।
পুতিনের ‘সিরিয়াস’ মনোভাব ও ডনবাস সংকট: মজার বিষয় হলো, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের ঠিক পূর্বমুহূর্তে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, পুতিন বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধ করার ব্যাপারে যথেষ্ট “সিরিয়াস” বা আন্তরিক মনোভাব দেখাচ্ছেন। তবে আলোচনার টেবিলে সবথেকে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ। ইউক্রেন এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ছাড়তে নারাজ, অন্যদিকে রাশিয়ার দখল করা জমি ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অনমনীয়তা আলোচনার পথকে কঠিন করে তুলছে। ট্রাম্প এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, “এটি নিঃসন্দেহে একটি খুব কঠিন বিষয়, তবে উপযুক্ত মধ্যস্থতায় এর সমাধান হবেই।”
জেলেনস্কির কূটনৈতিক কৌশল: এই সফরে জেলেনস্কিকে তাঁর পূর্বের আচরণের তুলনায় অনেক বেশি বিনয়ী ও কৌশলী দেখা গিয়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে একটি তিক্ত বৈঠক হয়েছিল জেলেনস্কির, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে ‘যথেষ্ট কৃতজ্ঞ না থাকার’ অভিযোগ উঠেছিল। সেই তিক্ততা মুছে এবার জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে গভীর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সচেষ্ট ছিলেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ট্রাম্প এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার জন্য আগামী জানুয়ারিতে তাঁরা আবারও ওয়াশিংটনে মিলিত হতে পারেন। ইউরোপের মিত্র দেশগুলোও রাশিয়ার আগ্রাসন রুখতে এই শান্তি প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের ওপর ভরসা রাখছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে যে এই যুদ্ধের অবসান চিরতরে সম্ভব কি না। বিশ্ব রাজনীতি এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, যা বদলে দিতে পারে গোটা ইউরোপের মানচিত্র।
