উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রামমন্দিরের অনুদান তছরূপের গুরুতর অভিযোগ তুলে হিন্দুত্বের রাজনীতিতে নতুন করে শান দিলেন শিবসেনা (ঠাকরে শিবির) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে (Uddhav Thackeray)। রবিবার মুম্বইয়ের দাদরে ‘রাম রক্ষা আন্দোলনের’ সূচনা করে তিনি সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “বিজেপি হিন্দুদের সম্মোহিত করে রেখেছে।” রামমন্দির থেকে শুরু করে বদ্রীনাথ-কেদারনাথের ধর্মীয় অনুদান নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
দাদরের হনুমান মন্দিরের সামনে ‘রাম রক্ষা স্ত্রোত্র’ ও ‘মারুতি স্ত্রোত্র’ পাঠ করে উদ্ধব বলেন, “দেশের হিন্দুদের জেগে ওঠার সময় হয়েছে। যারা ভগবান রামের নাম ভাঙিয়ে লুটপাট চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।” রামমন্দিরের (Ram Mandir Controversy) অনুদান নিয়ে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি, এক আইএএস আধিকারিকের দান করা সাড়ে ৪ কোটি টাকা মূল্যের সোনার রামচরিত মানসের হদিশ না পাওয়া নিয়েও উদ্ধব সরব হয়েছেন। উদ্ধবের তীব্র কটাক্ষ, “এত সোনা গেল কোথায়? রামভক্তরাই একদা রাবণের সোনার লঙ্কা পুড়িয়েছিল, এবার অন্যায়ের লঙ্কাও ছারখার হবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন লড়াইয়ের মুখে দাঁড়িয়ে উদ্ধব ঠাকরে এই ইস্যুটিকে সামনে এনে নিজের হিন্দুত্ববাদী ইমেজ পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। ২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের বিদ্রোহের জেরে মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারানো এবং সম্প্রতি লোকসভার সাংসদদের বড় অংশকে শিন্ডে শিবিরে হারানোর পর উদ্ধব ব্যাকফুটে। এই পরিস্থিতিতে ‘রাম রক্ষা আন্দোলন’ তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করার একটি কৌশল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উদ্ধবের এই আক্রমণের পালটা দিতে দেরি করেনি বিজেপি (BJP)। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ কড়া ভাষায় বলেন, “তিনি রামের পথ ত্যাগ করেছিলেন বলেই আজ তাঁর দলের এই করুণ দশা। এখন আবার রামের পথে ফিরলে তাঁরই মঙ্গল।” পালটা তোপ দেগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বলেন, “যারা আজ রামমন্দির নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন, তারাই একসময় শ্রীরামের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।”
রামমন্দির ইস্যুতে উদ্ধব ঠাকরের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামীদিনে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। দুর্নীতির অভিযোগের এই লড়াই এখন কেবল মন্দির বা অনুদানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা ক্রমশ বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ওপরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। উদ্ধবের এই নতুন ‘রাম রক্ষা’ আন্দোলন কতটা জনসমর্থন আদায় করতে পারে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

