গৌরহরি দাস, কোচবিহার: তাঁরা একসঙ্গে প্রদীপ জ্বালালেন, ব্যাডমিন্টনও খেললেন। কিন্তু হাত মেলানো বা সৌহার্দ্য বিনিময় তো দূরের কথা, একে অপরের সঙ্গে একটা কথাও বললেন না। ইন্টারন্যাশনাল ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শনিবার রবীন্দ্রনাথ ঘোষ (Rabindra Nath Ghosh) ও উদয়ন গুহ (Udayan Guha) ঘণ্টাখানেক একসঙ্গে কাটালেও তাঁদের দুজনের সম্পর্ক নিয়ে দলেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে রবির বক্তব্য, ‘ওদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন ফুরিয়েছে।’ উদয়নের জবাব, ‘অনেক কথা বলেছি। নতুন করে আর বলার কিছু নেই।’
জেলা ক্রীড়া সংস্থার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সংস্থার পরিচালনায় শনিবার ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি সংলগ্ন কোচবিহার স্টেডিয়ামের নেতাজি সুভাষ ইন্ডোর স্টেডিয়ামে নেপাল, ভুটান সহ ভারতবর্ষের অসম, বিহার সহ বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিযোগীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সেই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী উদয়ন গুহ, কোচবিহার স্টেডিয়াম কমিটির চেয়ারম্যান তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব সুব্রত দত্ত, জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুরজ ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে রবি ও উদয়ন দীর্ঘক্ষণ উপস্থিত থাকার পাশাপাশি প্রদীপ জ্বালিয়ে ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনও করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও দুজনকে একবারের জন্য নিজেদের মধ্যে একবারও কথা বলতে দেখা যায়নি। অনুষ্ঠান শেষে বিষয়টি নিয়ে রবির বক্তব্য, ‘ওঁর সঙ্গে সব কথা অনেক আগেই ফুরিয়েছে। এখন আর নতুন করে কিছু বলার নেই। ভবিষ্যতে আবার বলব।’ বিষয়টি নিয়ে উদয়ন বলেন, ‘এতদিন ধরে ওঁর সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে। নতুন করে আর কী কথা বলব? তাছাড়া খেলার সময় কথা বলতে নেই। বেশি কথা বললে আবার আয়ু ক্ষয় হবে।’
রবি ও উদয়নের মধ্যে সম্পর্ক বরাবরই অহিনকুলের। বছর দুয়েক আগে দলনেত্রীর ধমক খেয়ে এই দুই নেতা অনেকটা সংযত হয়েছিলেন। এরপর দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে মঞ্চে তাঁদের একসঙ্গে হাসিমুখে গল্প করা বা একান্তে কথা বলতে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে অনেকেই অবশ্য বলতেন, তাঁদের এই কাছাকাছি আসাটা আন্তরিকতার চেয়ে অনেকটাই বেশি লোকদেখানো। এই অবস্থায় বছরখানেক আগে প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়ের সঙ্গে রবি ঘোষের পুনরায় মিল হওয়ার পর থেকেই হিপ্পি-উদয়ন গোষ্ঠীর সঙ্গে রবি-পার্থ গোষ্ঠীর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। গত কয়েকমাসে দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে সরাসরি রবির নাম না করলেও তাঁকে উদ্দেশ্য করে উদয়নকে নানা কটাক্ষ করতে শোনা যায়। পালটা দিতে ছাড়েননি রবিও। তিনি তাঁদের উদ্যোগে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরাসরি উদয়নের নাম না করে কখনও নিজে আবার কখনও বা নিজের অনুগামীদের দিয়ে মন্ত্রীকে নানা কটাক্ষ করেছেন। সবমিলিয়ে দলের এই দুই বর্ষীয়ান নেতার মধ্যে সম্পর্ক আবার আগের মতোই তিক্ত হয়ে উঠেছে।
শনিবার ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মঞ্চে সেই ছবিই লক্ষ্য করা গিয়েছে। বরং সেই তিক্ততার ঝঁাঝ আরও বেড়েছে। আগামী বছর বিধানসভা ভোটের আগে দুই নেতার সম্পর্ক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলেই মনে করছেন দলের নীচুতলার কর্মী-সমর্করা।
