উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা বাজতেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল আমেরিকার অন্যতম ‘বন্ধু’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ আরব সাগরের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর পরেই আমিরশাহি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের ভূখণ্ড, জলসীমা বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
বন্ধুত্বে ফাটল নাকি কৌশল? কূটনৈতিক মহলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE Stance on Iran Strike) ট্রাম্প প্রশাসনের অত্যন্ত ভরসযোগ্য বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এমনকি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যস্থতাতেও তাদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পেন্টাগন যদি ইরানে হামলার কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা করে, তবে তারা আমিরশাহির সাহায্য পাবে না। সোমবার এক বিবৃতিতে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, আঞ্চলিক কোনো সংঘাতে তারা পক্ষ নেবে না এবং তাদের ভূমি ব্যবহার করে কোনো হামলা চালানো যাবে না।
উত্তেজনার কেন্দ্রে ট্রাম্পের হুঙ্কার: সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে চলা গণবিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এরপরই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। গত সপ্তাহের ট্রাম্পের সেই বিতর্কিত হুঁশিয়ারি—”একটি বিশাল নৌবহর (আর্মাডা) ইরানের দিকে যাচ্ছে”—পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রণতরীর অবস্থান নিয়ে ধন্দ: ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং তার সঙ্গে থাকা আরও তিনটি ঘাতক রণতরী ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, এই নৌবহরটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ভারত মহাসাগরে মোতায়েন করা হয়েছে, সরাসরি ইরানের সীমান্তে নয়। তবে আমিরশাহির এই কড়া অবস্থান পেন্টাগনের সামরিক পরিকল্পনায় বড়সড়ো ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াশিংটন যখন ইরানকে কোণঠাঁসা করতে চাইছে, তখন ঘরের কাছের বন্ধুর এই ‘না’ কার্যত ট্রাম্পের বিদেশনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।
