উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাঝেই বড় পদক্ষেপ। ইরানের সঙ্গে সমস্ত ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন এবং আর্থিক সম্পর্ক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE-Iran Commerce Suspension)। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অস্থিরতা তাদের আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। সেই কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশ মন্ত্রকের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস বিভাগের অধিকর্তা আফরা আল হামেলি এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে সমস্ত আর্থিক ও বাণিজ্যিক আদান-প্রদান আপাতত বন্ধ রাখা হলেও আমিরশাহি এখনও সংলাপ, সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সংহতির নীতিতেই বিশ্বাসী। আমিরশাহি প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে তাদের প্রধান লক্ষ্য অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।
মূলত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সমুদ্রসীমা লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোঁড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করার পরই দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটে (Iran ballistic missile scare)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র দু’টি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলকে নিশানা করে ছোঁড়া হয়েছিল। তবে স্বস্তির বিষয়, ক্ষেপণাস্ত্র দু’টি সরাসরি গিয়ে সমুদ্রে আছড়ে পড়ে। যদিও ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমিরশাহির এই দাবিকে পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের শান্তি আলোচনার সময়সীমা কোনও সুরাহা ছাড়াই শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনাটি ঘটে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এমনকি সম্প্রতি তাদের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘অ্যাডনক’-এর জাহাজে হামলার পেছনেও ইরানকে দায়ী করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা বজায় রাখতে এবং যেকোনও হুমকি মোকাবিলায় আমিরশাহির সেনা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

