২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের জাতীয় রাজনীতিতে দল ভাঙানোর যে খেলাটা শুরু হয়েছে তৃণমূল থেকে, সেটা শিব সেনা হয়ে পৌঁছে গেল উত্তরপূর্বের দল ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে। মেঘালয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ইউডিপি এবার ভেঙে খান খান। ১২ জন বিধায়কের মধ্যে ৮ জনই একযোগে যোগ দিলেন গেরুয়া শিবিরে।
বুধবার দিল্লিতে গিয়ে ইউডিপির ৮ বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেন। ওই আট বিধায়ক হলেন, লাহকমেন রিম্বুই (আমলেরেম), প্রাক্তন মন্ত্রী কিরমেন শ্যাল্লা (খলিহরিয়াত), ওলান সিং সুইন (মৌসিনরাম), ম্যাথু বিয়ন্ডস্টার কুরবাহ (মাওফ্লাং), মেরালবোর্ন সিয়েম (নংপোহ), পিয়াস মারওয়েন (রানিকোর), সিনশার থাবাহ (সোহিয়ং স্লাজিন)। এতদিন ইউডিপির ১২ জন বিধায়ক ছিলেন। এছাড়াও দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। একসঙ্গে আটজন বিধায়ক যোগ দেওয়ায় ইউডিপি’র অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেল।
আরও পড়ুন:
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মেঘালয়ের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছিল। ইউডিপির বিধায়করা যে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন, সে জল্পনাও ছিল। মূলত গুটিকয়েক দাবি নিয়ে বিজেপিতে গিয়েছেন তাঁরা। এক খাসি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে জায়গা দিতে হবে। আইনসিদ্ধভাবে কয়লা উত্তোলনের অনুমতি দিতে হবে। MRSSA আইনে স্বীকৃতি দিতে হবে। যদিও এর নেপথ্যে অন্য রাজনীতি দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। এমনিতেই মেঘালয়ের রাজনীতিতে জমি হারাচ্ছে ইউডিপি। সেখানে কংগ্রেস, এনপিপি এবং বিজেপির চাপে কোণঠাঁসা স্থানীয় দলগুলি। তাছাড়া সে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতা বাড়াতে মরিয়া। তাই তাঁদের নজর ছিল খাসি পাহাড় এলাকার ওই দলটির দিকে।
ইউডিপির আট বিধায়ক সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রই বদলে গেল। এখন সে রাজ্যে বিজেপিই দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। ৬০ আসনের মেঘালয় বিধানসভার শাসক এনপিপির বিধায়ক সংখ্যা ২৬। বিজেপির বিধায়ক বেড়ে হল ১০। কংগ্রেস এবং তৃণমূলের পাঁচজন করে বিধায়ক রয়েছেন। ফলে শাসক জোটে থাকলেও বিজেপির এই শক্তিবৃদ্ধি কনরাড সাংমার উপর চাপ বাড়াবে। আগামী দিনে উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যেও নিজেদের মুখ্যমন্ত্রী বসানোর চেষ্টা করবে গেরুয়া শিবির। তাছাড়া বিজেপির এই শক্তিবৃদ্ধি চাপ বাড়াবে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের উপরও।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
