উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : ময়দান তথা বাংলার ক্রীড়া জগতে এক যুগের অবসান ঘটল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মোহনবাগান (Mohun Bagan) অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া প্রশাসক স্বপন সাধন বসু, যিনি সকলের কাছে টুটু বসু (Tutu Bose) নামেই পরিচিত। মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে ৭৮ বছর বয়সে তাঁর মহাপ্রয়াণ ঘটে। তাঁর মৃত্যুতে গোটা কলকাতা ময়দান এবং সবুজ-মেরুন শিবিরে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
টুটু বসু (Tutu Bose) ও মোহনবাগানের সোনালী অধ্যায়
গত সোমবার সন্ধ্যায় আচমকাই হৃদ্রোগে (Coronary heart Assault) আক্রান্ত হন বর্ষীয়ান এই ক্রীড়া প্রশাসক। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ভেন্টিলেশনে (Ventilator) রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁকে দেখতে যান রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) সভাপতি কল্যাণ চৌবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার রাতে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
মোহনবাগান ক্লাব এবং টুটু বসু (Tutu Bose) যেন সমার্থক একটি নাম। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি ক্লাবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। তাঁর প্রশাসনিক যাত্রাপথের উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হলো:
- সচিব পদে দায়িত্ব: ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি ক্লাবের সচিব ছিলেন। বর্তমানে তাঁর পুত্র সৃঞ্জয় বসু ক্লাবের সচিব পদে রয়েছেন।
- সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব: ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২০-২২ এবং ২০২২-২০২৫ মেয়াদে দু’দফায় ফের সভাপতি নির্বাচিত হন। গত বছর নির্বাচনের আগে তিনি এই পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
যুগান্তকারী সব সিদ্ধান্ত ও সম্মাননা
তাঁর হাত ধরেই মোহনবাগান ক্লাবে একের পর এক ইতিহাস তৈরি হয়েছে। যে সবুজ-মেরুনে কখনও বিদেশি ফুটবলার খেলেননি, সেখানে চিমা ওকেরিকে (Chima Okorie) সই করিয়ে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া, শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েন্কার হাতে ক্লাবের মালিকানা তুলে দিয়ে নামের আগে ‘এটিকে’ (ATK) যুক্ত করার মতো ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তও তাঁর আমলেই বাস্তবায়িত হয়।
ফুটবল প্রশাসক ছাড়াও তিনি ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী, সংবাদপত্রের মালিক এবং তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ। বেশ কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হুইলচেয়ার বন্দি ছিলেন। তবে গত বছর মোহনবাগান দিবসে তাঁকেই ক্লাবের সর্বোচ্চ সম্মান ‘মোহনবাগান রত্ন’ (Mohun Bagan Ratna) প্রদান করা হয়। আজ তাঁর প্রয়াণে আক্ষরিক অর্থেই অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল সবুজ-মেরুন জনতা।
