উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সাড়ে আটাশ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় করা ‘টুলুকাণ্ডে’ (Tulu Mondal Case) এবার বড়সড়ো মোড়। পলাতক খনি ব্যবসায়ী তথা ‘পাথরসম্রাট’ মহম্মদ নিজামুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের অবৈধ সাম্রাজ্যের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে সিউড়ির মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রবীর দাসকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ (Birbhum Police)। শুক্রবার রাতে সিউড়ির কল্পতরুপল্লিতে তাঁর বাড়িতে টানা ছ’ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পর তাঁকে আটক করা হয়। শনিবার ধৃতকে সিউড়ি আদালতে তোলা হলে বিচারক ছয় দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় আদালতে জানান, ধৃত প্রবীর দাসের বাড়ি থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাথর শিল্পাঞ্চলের ডিসিআর (DCR) চেকিং গেটে কোন সরকারি কর্মী ডিউটি করবেন, তার পুরো নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ব ছিল এই প্রবীরের হাতেই। অর্থাৎ, পাথর মাফিয়া চক্রের সঙ্গে ভূমি দপ্তরের ভিতরের কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও প্রবীরের স্ত্রী সাথী দাসের দাবি, তাঁর স্বামী সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং টুলুর সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। তল্লাশিতে মাত্র ৮১ হাজার টাকা ও কিছু জমির নথি পাওয়া গেলেও পুলিশ তা বাজেয়াপ্ত করেনি বলে দাবি তাঁর।
এদিকে, টুলুকাণ্ডের তদন্তের জাল আরও গুটিয়ে আনতে শুক্রবার রাতেই অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সেহগল হোসেনের বোলপুর বাইপাস সংলগ্ন আবাসনে হানা দেয় বীরভূম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। এসডিপিও (বোলপুর) অর্পিত আর পারাখের নেতৃত্বে চলা এই অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও নগদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, টুলুর সঙ্গে সেহগলের দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন ও গভীর যোগাযোগ ছিল। পাশাপাশি, পলাতক টুলুর শ্যালক মিঠু শেখের বাড়িতেও শনিবার সকাল থেকে লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গত ২৯ জুলাই টুলুর এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পাহাড়প্রমাণ নগদ ও সোনা উদ্ধারের পর থেকেই আত্মগোপন করে রয়েছেন ‘পাথরসম্রাট’। তবে একের পর এক প্রভাবশালী ও সরকারি কর্মীর নাম এই চক্রে জড়ানোয় আসল জট কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

