Tufanganj Hospital | দু’দিন বন্ধ ইউএসজি, হয়রানি তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে

Tufanganj Hospital | দু’দিন বন্ধ ইউএসজি, হয়রানি তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে

শিক্ষা
Spread the love


বাবাই দাস, তুফানগঞ্জ: চিকিৎসক দু’দিন ধরে ছুটিতে। আর তাই বন্ধ আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরিষেবা। মোটা টাকা খরচ করে রোগীকে নিয়ে ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি ল্যাবে। ক্ষুব্ধ রোগীর পরিজন। পরিষেবা যে দু’দিন বন্ধ থাকবে, সেটা জানা না থাকায় অধিকাংশ রোগীই এসে ফিরে গিয়েছে। এমনটাই ঘটেছে তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে (Tufanganj Hospital)।

গত শনিবার এবং সোমবার পরিষেবা বন্ধ থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অভিযোগ, শুধু এই দু’দিনই নয়, মাঝেমধ্যেই বন্ধ থাকছে হাসপাতালের ইউএসজি পরিষেবা। হাসপাতালের সুপার মৃণালকান্তি অধিকারীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক ছুটিতে থাকার দরুন দু’দিন একটু সমস্যা হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে কারও রিপোর্ট দেওয়া আটকে নেই। শীঘ্রই পরিষেবা স্বাভাবিক হবে।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহে ছয়দিন রোগীদের জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরিষেবা থাকলেও মাঝেমধ্যে পরিষেবাও স্বাভাবিক থাকে না। হাসপাতালে রিপোর্ট সাধারণত আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর দেড়-দু’ঘণ্টার মধ্যেই মিলে যায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই রিপোর্টে ভুল থাকার অভিযোগ উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত খরচ বহন করে ছুটছেন বেসরকারি ল্যাবে। সেখানে আবার পরীক্ষা করাতে আটশো থেকে বারোশো টাকার মতো খরচ পড়ছে বলে জানা গিয়েছে।

সোমবার নাটাবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে বরকে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে এসেছিলেন চন্দনা দাস। তাঁর কথায়, ‘শুক্রবার ডেলিভারির তারিখ ছিল। কিন্তু সমস্যা থাকায় শনিবার পরীক্ষার তারিখ দেওয়া হয়। কিন্তু সেদিন এলে বলা হয় সোমবার আসতে। কিন্তু আজও ফিরিয়ে দেওয়া হল। বলা হল চিকিৎসক ফিরলে তারপর হবে। এই অবস্থায় কী করব, বুঝতে পারছি না।’ একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন অসমের ধুবড়ি থেকে আসা অরূপ দাসও। তাঁর আক্ষেপ, ‘এত দূর থেকে আসার পর জানলাম পরিষেবা বন্ধ। সরকারি স্তরে যদি আরও কিছু পরীক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা হত, তাহলে আমাদের মতো গরিব মানুষের সুবিধা হত।’

তুফানগঞ্জ মহকুমার ২৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং একটি পুরসভা তো বটেই, নিম্ন অসমের ধুবড়ি এবং কোকরাঝাড় জেলার মানুষজনও চিকিৎসা করাতে আসেন তুফানগঞ্জের এই হাসপাতালে। এত মানুষ ষেখানে নির্ভরশীল, সেখানকার পরিষেবার এমন হাল হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে। সমস্যার মুখে পড়ছেন প্রচুর মানুষ। অন্য হাসপাতালগুলিতে পরিষেবা চালু থাকলেও এই হাসপাতালে বহু পরীক্ষার পরিষেবা একেবারেই বেহাল। স্বাভাবিকভাবেই বেসরকারি ল্যাবগুলির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে সাধারণ মানুষের। কিন্তু সেখানে অত টাকা খরচ করার সামর্থ্য কি সবার থাকে? তাহলে তাঁদের কী হবে, উঠছে প্রশ্ন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *