তুফানগঞ্জ: সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি বিএসএফ সীমান্ত এলাকায় চাষিদের ফসল রক্ষা করছে। তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কৃষ্ণপুরের চাষিরা বিএসএফের এই উদ্যোগে খুশি। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওপারের পাচারকারীরা পাচারের কাজে সমস্যা হলে মাঝেমধ্যে ভারতীয় কৃষকদের জমি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এছাড়া জমিতে ফসল ফলানোর পর সেই ফসল ঘরে তোলা যেত না। খেতের ফসল চুরি হয়ে যেত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কয়েকজন ফসল চুরি করে নিয়ে যেত। কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভারতীয়দের জমির ফসল বাংলাদেশিরা গবাদিপশুকে দিয়ে খাইয়ে দিত। বিএসএফের উদ্যোগে সেই সমস্যা মিটেছে। সীমান্তে ভারতীয় কৃষকদের জমির ফসল যাতে সুরক্ষিত থাকে, সেদিকেও সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর জওয়ানদের নজর থাকছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিএসএফের ১৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের এক আধিকারিক বলেন, ‘সীমান্তে সবসময় বিএসএফের কড়া নজরদারি থাকে। সীমান্তবাসী ও কৃষকদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকেও বিএসএফের নজর রয়েছে। ধান, লংকা ও শীতকালীন সবজির জমির দিকেও বিএসএফের বিশেষ নজর থাকছে।’ এর ফলে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারের জমির ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটা কমেছে। স্থানীয় চাষিরা বিএসএফের সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন।
তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের বালাভূত ও দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশিরভাগ অংশ বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনেক ভারতীয়র জমি কাঁটাতারের ওপারে পড়েছে। চাষিদের সেই জমিতে যেতে গেলে একটি গেট পেরোতে হয়। সেই গেট নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা থাকে। তার মধ্যে এপারের চাষিদের চাষবাস করে ফিরে আসতে হচ্ছে। বাকি সময়ে চাষের জমিতে কোনও সমস্যা হলে সহজে সেখানে চাষিরা পৌঁছাতে পারছেন না। এই সুযোগে বাংলাদেশের বাসিন্দাদের গোরু, ছাগল ফসল খেয়ে ফেলত। রাতে ফসল চুরি যেত। এখন সেসব অনেকটা কমেছে। কৃষ্ণপুরের আবদুল আজিজ মিয়াঁর কথায়, ‘কয়েক বছর আগেও বেড়ার ওপারে জমির ফসল চুরি হয়ে যেত। ওপারের গবাদিপশু ফসলের ক্ষতি করত। বিএসএফের নজরদারিতে এখন আমাদের ফসল সুরক্ষিত।’
কৃষকরা জানিয়েছেন, কাঁটাতারের ওপারে আন্তর্জাতিক সীমান্তের পাশে জমিতে কাজ করার সময় তাঁদের মনে একটা আতঙ্ক থাকে। তার ওপর বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের ভয় রয়েছে। বিএসএফ জওয়ানরা জমি সংলগ্ন এলাকায় পাহারা দেওয়ায় তাঁরা নিশ্চিন্ত হয়েছেন।
