উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রযুক্তি যে কতটা অভাবনীয় গতিতে এগিয়ে চলেছে, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ এখন হাতের মুঠোয়। শুধু পৃথিবীর বুকেই নয়, মহাশূন্যের অস্থায়ী আস্তানাতেও এখন মানুষের বাস। সেখানে চাষবাস, কাজ বা বিশ্রামের পাশাপাশি এবার জায়গা করে নিচ্ছে ফুটবলের মতো আউটডোর খেলাও! ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে (ISS) শুরু হয়েছে ফুটবল নিয়ে এক অভিনব বৈজ্ঞানিক গবেষণা। আর এই গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল—‘ট্রাইওন্ডা’ (Trionda Soccer 2026)।
সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, স্পেস স্টেশনের একটি ছোট ভারশূন্য ঘরে দুই মহিলা ও দুই পুরুষ নভোশ্চর সাদা-লাল-নীল রঙের ‘ট্রাইওন্ডা’ বলটি নিয়ে রীতিমতো খেলায় মেতেছেন। তবে পৃথিবীর মাঠের মতো এখানে বলের গতি চেনা ছন্দে নেই। মহাকর্ষহীন পরিবেশের কারণে বলের গতি অত্যন্ত ধীর। সামান্য দূরত্ব পার হতেই বলটি বেশ খানিকটা সময় নিচ্ছে। নাসা তাদের পোস্টে লিখেছে, “এমন সুন্দর একটা খেলা স্পেস স্টেশনে নভোশ্চরদের জীবন আরেকটু সুন্দর করতে পারে। মহাকাশে ফুটবল খেলার এই উদ্যোগ সফল হলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে শূন্যে ভাসমান অবস্থায় ফুটবল ম্যাচে গোল হওয়ার দৃশ্যও দেখা যেতে পারে!”
The official FIFA World Cup ball went to house!
We’re working to encourage the subsequent technology by displaying how house exploration evokes innovation in sports activities science — and on a regular basis life. Study extra: https://t.co/CWbI8MFDtp pic.twitter.com/ebJtkpD5uM
— NASA (@NASA) June 20, 2026
পৃথিবীর মাঠে যে গতিবিজ্ঞানের (Aerodynamics) ওপর ভিত্তি করে ফুটবল খেলা হয়, মহাশূন্যের শূন্যস্থানে তা খাটে না। সেখানে বলের ভারসাম্য বেশ দুর্বল। মহাকাশে ফুটবল নিয়ে ঠিক কী ধরনের কসরৎ করা সম্ভব এবং বলের গতিপ্রকৃতি কেমন হয়, তা-ই এখন খুঁটিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের ধারণা, এই পরীক্ষার মাধ্যমে গতিবিজ্ঞানের সম্পূর্ণ নতুন কোনো সূত্রও আবিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
‘ট্রাইওন্ডা‘ বলের আদ্যোপান্ত: প্রযুক্তি ও প্রতীকের মেলবন্ধন
২০২৬ বিশ্বকাপের বল ‘ট্রাইওন্ডা’-এর ডিজাইন এবং প্রযুক্তি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ইতিমধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে:
- নামের অর্থ: ‘ট্রাই’ অর্থাৎ তিন এবং ‘ওন্ডা’ অর্থাৎ তরঙ্গ। এটি তিনটি আয়োজক দেশ— আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডার ঐক্যের প্রতীক।
- রঙের তাৎপর্য: লাল (আমেরিকা), সবুজ (মেক্সিকো) এবং নীল (কানাডা)— এই তিনটি রং আয়োজক দেশগুলির জাতীয় পতাকাকে নির্দেশ করে।
- অত্যাধুনিক সেন্সর: বলটিতে যুক্ত রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির সেন্সর, যা বলের ভারসাম্য ও গতি নির্ণয়ে সাহায্য করে। মহাশূন্যে এই বলের ভারসাম্য কেন দুর্বল, তা উন্নত করার চেষ্টাও চলছে গবেষণার মাধ্যমে।
মহাশূন্যে ফুটবল খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নাসা অত্যন্ত আশাবাদী। শূন্যে ভেসে ভেসে নিখুঁত কিক আর দুর্দান্ত সব গোলের সাক্ষী কি তবে মানবজাতি অদূর ভবিষ্যতেই হতে চলেছে? উত্তর পেতে আপাতত বিজ্ঞানের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

