উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ঐতিহাসিক ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার ঘরে থাকবে (TMC image dispute) ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট, নাকি বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নতুন’ তৃণমূল? জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) বেঁধে দেওয়া সময়সীমার আগেই নিজেদের পক্ষে নথিপত্র জমা দিয়ে এল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল শিবির। অন্যদিকে, আইনি লড়াইয়ে আরও কিছুটা বাড়তি সময় চেয়ে নিয়েছেন তৃণমূলেরই ঋতব্রতপন্থী অংশ।
এদিন কড়া আইনি প্রস্তুতি নিয়ে কমিশনে হাজির হন কালীঘাটের তিন হেভিওয়েট প্রতিনিধি— সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ। তাঁরা দলের প্রতিষ্ঠা (১৯৯৭ সাল) থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে ২০০০ সালে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ এবং দলের সংশোধিত গঠনতন্ত্রের সমস্ত খুঁটিনাটি নথিভুক্ত প্রমাণপত্র জমা দেন।
বিপরীত মেরুতে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) বা তাঁদের ঘোষিত দলের চেয়ারম্যান অরূপ রায়রা নিজেরা সশরীরে কমিশনে যাননি। তাঁদের হয়ে আইনজীবীরা হাজিরা দিয়ে স্ক্রুটিনির জন্য আরও কিছুটা সময় চেয়ে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক তথা এই শিবিরের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান অবশ্য দাবি করেছেন, আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁরাও কিছু গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ নথি এদিন জমা দিয়েছেন।
ঋতব্রত শিবিরের মূল আইনি যুক্তি হলো— ২০২২ সালের পর তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ ২০২৫-এ ফুরিয়ে গিয়েছে, তাই বর্তমান সাংগঠনিক কমিটি অবৈধ। এই যুক্তিকে এদিন কার্যত খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যদি ২০২৫ সালেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে দিনকয়েক আগের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই করা প্রতীকেই এই বিধায়করা লড়লেন কী করে? তখন তো প্রতীক অবৈধ মনে হয়নি! যদি কালীঘাটের কর্তৃত্ব অবৈধ হয়, তবে তো এঁদের বিধায়ক পদটাই আইনিভাবে অবৈধ হয়ে যায়।” কল্যাণ এদিন দাবি করেছেন, “আইনি দিক থেকে আমরা ১০০ শতাংশ পোক্ত জায়গায় আছি। কিন্তু ওদের পেছনে বিজেপি এবং শুভেন্দু অধিকারীর সুক্ষ্ম হাত রয়েছে। তাই ওদের বেআইনি দাবিও হয়তো আইনি স্বীকৃতি পেয়ে যেতে পারে। তবে আমরাও ছেড়ে দেব না, জনতার আদালত এবং দেশের উচ্চ আদালতে এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
আপাতত বল পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের কোর্টে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ফুল বেঞ্চ দুই পক্ষের জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে দ্রুতই চূড়ান্ত সিলমোহর দেবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, এই ‘জোড়াফুল’ বিতর্ক শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালতেই গড়াবে। ক্ষমতার অলিন্দে আকচাআকচির জেরে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অফিশিয়াল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে, যা দলের দৈনন্দিন কাজকর্মে বড়সড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।

