উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল এবার পৌঁছে গেল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র পর্যন্ত! তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (TMC Financial institution Accounts) আর্থিক লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল পুলিশ। ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে কোটি কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে বলে জানা গেছে। বিধাননগর পুলিশের সাইবার থানার তৎপরতায় এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রের খবর, তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে, যার মধ্যে ২৬০ কোটি টাকা রয়েছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) অ্যাকাউন্টে এবং বাকি ১৮০ কোটি টাকা রয়েছে ত্রিপুরা ও গোয়ার দলীয় অ্যাকাউন্টে।
মনে করা হচ্ছে, পুরো ঘটনাটির নেপথ্যে রয়েছে দলের সাংগঠনিক রদবদল এবং পরবর্তী আইনি জটিলতার আশঙ্কা। ৫ জুন তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদলে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে সরে যান অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। তবে ব্যাঙ্কের নথিতে এখনও অরূপ বিশ্বাসই ‘সিগনেটরি’ হিসেবে নথিভুক্ত।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বর্তমান সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে লেনদেন বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছিলেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, এই মুহূর্তে দলের তহবিলের আর্থিক লেনদেন তাঁকে বড় কোনো আইনি বিপাকে ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক তৃণমূল বিধায়ক একই সময়ে বিধাননগর (Bidhannagar) সাইবার থানায় ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
বিধায়কের অভিযোগ:
• পদ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে অর্জিত অর্থ এই অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা করা হয়েছে।
• অনলাইন ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে এই টাকা সরিয়ে ফেলা হতে পারে, ফলে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা রয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এফআইআর রুজু করেছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের নির্দেশে আপাতত ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা তোলা বা কোনো ধরণের লেনদেন সম্ভব নয় বলে জানা গিয়েছে।

