উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Financial institution Account) সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচার মামলায় তদন্তের গতি বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দলের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫০ কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা কয়েকটি ভুয়ো ভ্রমণ সংস্থা ও বিমান পরিষেবা সংস্থার মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার কলকাতার মোট পাঁচটি জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি চালালেন ইডি আধিকারিকরা।
তদন্তকারী সংস্থার নিশানায় রয়েছে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ নামক একটি সংস্থা। সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ভিভিআইপি নেতাদের বিমান ভ্রমণের খরচ এই সংস্থা থেকেই মেটানো হতো। ইডি-র দাবি, এই সংস্থাটির অধীনে আরও বেশ কয়েকটি ভ্রমণ ও পরিষেবা সংক্রান্ত সংস্থা রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন হয়েছে। এই সংস্থাগুলোর মাধ্যমেই টাকা পাচার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মঙ্গলবার সকালে লালবাজার সংলগ্ন রাধাবাজারে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’-এর অফিসে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। একই সঙ্গে সল্টলেকে ওই সংস্থার মালিকের বাড়ি এবং নিউ টাউনের একটি ঠিকানায় চলে তল্লাশি। পাশাপাশি, একটি ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের দফতর ও মধ্য কলকাতার এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের অফিসেও অভিযান চালানো হয়েছে। তল্লাশিতে বেশ কিছু নথিপত্র এবং বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বিধায়ক বিধাননগর সাইবার থানায় সাইবার প্রতারণার টাকা তৃণমূলের কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে পড়ার অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। অন্যদিকে, দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ ওই অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করে। পরে এই মামলার আর্থিক দুর্নীতির দিকটি খতিয়ে দেখতে আসরে নামে ইডি।
তৃণমূলের এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার হদিস পাওয়া গিয়েছিল, যার উৎস ও ব্যয় নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছে ইডি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই তদন্তের জাল যত গড়াচ্ছে, ততই তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা আরও প্রকাশ্যে আসছে।

