উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও মিশর। তবে প্রথমার্ধ শেষে মাঠের চিত্র বলছে অন্য কথা। ফেভারিট হিসেবে নামলেও, পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যেতে হলো লিওনেল মেসিদের। লড়াকু ফুটবল আর দুর্দান্ত রক্ষণভাগে ভর করে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে মো সালাহের মিশর (Argentina vs Egypt)।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠের দখল নিতে মরিয়া ছিল দু’দলই। হাই-প্রেসিং ফুটবলে একে অপরকে চাপে রাখার চেষ্টা করছিল আর্জেন্টিনা ও মিশর। তবে আক্রমণের ধারায় এগিয়ে ছিল মিশর। ছোট ছোট পাসে নিখুঁত ফুটবল খেলে বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে হানা দিচ্ছিল তারা। সেই আক্রমণের ফসল আসে ১৫ মিনিটের মাথায়। একটি চমৎকার ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে মিশরকে লিড এনে দেন ইয়াসির ইব্রাহিম। চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার স্বাদ পেল আর্জেন্টিনা।
পিছিয়ে পড়ার চার মিনিট পরেই সমতা ফেরানোর মোক্ষম সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ১৯ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু বরাবরের মতোই যেন স্নায়ুর চাপে ভুগলেন মেসি। গোলরক্ষকের বাঁ দিক দিয়ে শট নিলেও, তা ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট এবং দুর্বল। মিশরের গোলরক্ষক মুস্তাফা শোবেরকে বল ফেরাতে খুব একটা কসরত করতে হয়নি। এই নিয়ে বিশ্বকাপে আটটি পেনাল্টি নেওয়া মেসির এটি চতুর্থবারের মতো মিস।
গোল শোধে মরিয়া মেসি ম্যাচের ৩১ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে এক বুলেট গতির শট নিয়েছিলেন। কিন্তু আজ যেন ভাগ্যও সহায় ছিল না আর্জেন্টিনার। মিশরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও বল আঘাত করে সাইড পোস্টে। এরপরও গোল পাওয়ার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু মেসির আরেকটি বাঁকানো শট ফের গোলপোস্টের বাধায় ফিরে আসে।
ম্যাচের ৩৯ মিনিটের মাথায় হুলিয়ান আলভারেজ গোল করার একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়ে আলভারেজ গোলপোস্টের মাঝ বরাবর নিচু শট নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে যেন অতিমানবীয় রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিশরের গোলরক্ষক মুস্তাফা শোবের। এক অবিশ্বাস্য সেভে তিনি আর্জেন্টিনাকে গোলবঞ্চিত করেন। শোবেরের অসামান্য পারফরম্যান্সেই ব্যবধান বড় হতে দেয়নি মিশর।
প্রথমার্ধ শেষে স্কোরবোর্ড বলছে, মিশর ১—০ আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে মেসিরা কি পারবেন ঘুরে দাঁড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে? নাকি বিশ্বকাপে বড় অঘটন ঘটিয়ে ইতিহাস গড়বে মিশর? সেই উত্তরের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

