বক্সিরহাট: দেড় মাস আত্মগোপন করেও শেষ রক্ষা হল না। ভোট-পরবর্তী হিংসা (Put up-poll violence) ও তোলাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত মহিষকুচি-২ অঞ্চলের তৃণমূল সহ-সভাপতি জাহান উদ্দিন আহমেদকে এবার পাকড়াও করল ক্ষুব্ধ জনতা (TMC Chief)। রবিবার তুফানগঞ্জের (Tufanganj) বাকলা এলাকার টাটেরকুঠি জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের পানীয় জলের পাম্প হাউস থেকে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে গণধোলাই দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে বক্সিরহাট থানার পুলিশ পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই নেতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
অভিযোগ, একুশের বিধানসভা ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের ঘটনায় সম্প্রতি জাহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের রয়েছে থানায়। তোলাবাজির পাশাপাশি কাটমানির অভিযোগও রয়েছে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু গত বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই আত্মগোপন করেছিলেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। তবে বাকলা বাজারের পাশে জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের পাম্প হাউসের ভেতর তিনি লুকিয়ে আছেন, এই খবর ছড়াতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিমেষের মধ্যে সেখানে জড়ো হন বিজেপি কর্মী-সমর্থক সহ বহু মানুষ।
অভিযোগ, পাম্প হাউসের তালা খুলে তৃণমূল নেতাকে বাইরে বের করে এনে শুরু হয় কিল, চড়, ঘুসি ও লাঠিপেটা। পুলিশের সামনেই মাটিতে ফেলে চলে গণপ্রহার। এরপর কোনওরকমে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে বক্সিরহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় পুলিশ। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
এই ঘটনায় তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের বিজেপি নেতা কনক প্রধান বলেন, ‘জাহান উদ্দিন এলাকার কুখ্যাত তৃণমূল হার্মাদ। উনি আমাদের বহু কর্মীর ঘরবাড়ি ভেঙেছেন, বাজারে ঢুকতে দেননি। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন। আজ সাধারণ মানুষ ওকে খুঁজে বের করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।’

